নিউজ ডেস্ক: মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারক নিগ্রহ এবং কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের সামনে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার পর এবার রণংদেহি মেজাজে নির্বাচন কমিশন। মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া। বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যজুড়ে যে কোনও ধরণের বেআইনি জমায়েতের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এবার থেকে রাজ্যে কোথাও সভা, মিছিল বা জমায়েত করতে হলে আগেভাগে প্রশাসনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অনুমতি ছাড়া চার বা ততোধিক মানুষ একজোট হলেই আইন অমান্যকারীদের সরাসরি গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএলও-দের জন্য ‘সাসপেনশন’ দাওয়াই:
কলকাতার সিইও দফতরের সামনে সাম্প্রতিক গোলমাল নিয়ে সবথেকে বেশি ক্ষুব্ধ কমিশন। মঙ্গলবার ফর্ম ৬ নিয়ে তৃণমূলপন্থী বিএলও (BLO) রক্ষা কমিটির বিক্ষোভ এবং বিজেপি সমর্থকদের সঙ্গে তাঁদের ধস্তাধস্তির জেরে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে বিএলও-দের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, যদি আবারও মঞ্চ বেঁধে বা অন্য কোনও ভাবে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আর কোনও কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হবে না— সরাসরি ধরিয়ে দেওয়া হবে সাসপেনশনের চিঠি। এমনকি সিইও দফতরে গিয়ে দেখা করার ক্ষেত্রেও এখন থেকে আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভবানীপুর কাণ্ডে ৩টি এফআইআর:
এদিকে ভবানীপুরে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে যে গোলমাল হয়েছিল, তার জল গড়িয়েছে থানা পর্যন্ত। ওই ঘটনায় মোট তিনটি এফআইআর (FIR) দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে কালীঘাট থানায় একটি এবং আলিপুর থানায় দুটি অভিযোগ জমা পড়েছে। আলিপুর থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের একটি করেছেন খোদ নির্বাচনী আধিকারিক (ERO)। প্রশাসনের এই তৎপরতা বুঝিয়ে দিচ্ছে, ভোটের ময়দানে অশান্তি পাকানো বা সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
রাজ্য প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “কমিশন এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে। বেআইনি জমায়েত রুখতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।” এই নির্দেশের ফলে নির্বাচনী প্রচারের শেষ লগ্নে রাজনৈতিক দলগুলি কীভাবে সভা-সমাবেশ পরিচালনা করে, এখন সেটাই দেখার।