নিউজ ডেস্ক: তৃষ্ণা মেটাতে জলের বোতল কিনেছিলেন ব্যবসায়ী। কিন্তু সিলবন্ধ সেই বোতলে জলের বদলে যে লুকিয়ে ছিল প্রাণঘাতী রাসায়নিক, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি কেউ। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর থানার হালাড়া মোড়ে একটি মিষ্টির দোকানে এই হাড়হিম করা ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে (ICU) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন ব্যবসায়ী জয়জিৎ মহান্ত (৫৬)। এই ঘটনায় অভিযুক্ত দোকানদারকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জামালপুরের দোলতলা এলাকার বাসিন্দা জয়জিৎবাবু পেশায় বালি ব্যবসায়ী। সোমবার দুপুরে ব্যবসায়িক কাজে বাইক নিয়ে বেরোনোর সময় হালাড়া মোড়ে প্রবল তেষ্টা পাওয়ায় একটি মিষ্টির দোকান থেকে নামী কোম্পানির দুই লিটারের একটি জলের বোতল কেনেন তিনি। দোকানদার সিলবন্ধ বোতলটি হাতে দিলে জয়জিৎবাবু সরল বিশ্বাসে সেটি খুলে বেশ খানিকটা খেয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যেই গলার ভেতর তীব্র জ্বালা শুরু হয় তাঁর। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় রক্তবমি এবং মুখ দিয়ে লালা পড়তে থাকে।
তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জামালপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং পরে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় রাতেই তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনার খবর পেয়েই জামালপুর থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ওই মিষ্টির দোকানে হানা দেয়। তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত দোকানদার প্রণব সরকার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন, দোকানে ছানা কাটানোর জন্য জলের খালি বোতলে ‘মিল্ক অ্যান্টিফাঙ্গাস অ্যাসিড’ ভরে রাখা হয়েছিল। ভুলবশত সেই বিষাক্ত রাসায়নিক ভর্তি বোতলটিই নতুন জলের বোতল ভেবে তুলে দেওয়া হয়েছিল ব্যবসায়ীর হাতে।
পুলিশ ওই দোকান থেকে একই রকম রাসায়নিক ভর্তি আরও একটি বোতল বাজেয়াপ্ত করেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, বর্তমানে অনেক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী ছানা কাটাতে এই বিশেষ অ্যাসিড ব্যবহার করছেন। চিকিৎসকদের দাবি, জলের মতো দেখতে এই অ্যাসিড অত্যন্ত বিষাক্ত। খালি পেটে সামান্য পরিমাণ রাসায়নিক শরীরে গেলেই তা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। অথচ সাধারণ মানুষের চোখে ধুলো দিতে এগুলি নামী কোম্পানির জলের বোতলেই রাখা হচ্ছে, যা বড়সড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।