নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই মালদহ জেলার চাঁচল-১ ব্লকের মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল তীব্র উত্তেজনা। নির্বাচন কমিশনের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ইমামপুর এলাকার বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, এলাকার একাধিক সুস্থ ও জীবিত ব্যক্তির নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ বা ‘মৃত’ লিখে তাঁদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, একই এলাকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম তালিকায় বহাল তবিয়তে রয়ে গিয়েছে। কমিশনের এই হাস্যকর অথচ যন্ত্রণাদায়ক ভুলে ক্ষুব্ধ সাধারণ ভোটাররা।
সবথেকে করুণ অবস্থা ইমামপুরের বাসিন্দা নমিতা দাস ও তাঁর ছোট ছেলে খোকন দাসের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কাছে এসআইআর (SIR) শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। নমিতা দেবী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট দিনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সমস্ত বৈধ নথিপত্র জমা দিয়ে আসা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম বাদ পড়েছে। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধা। পরিবারের প্রশ্ন, সব নিয়ম মেনে নথি জমা দেওয়ার পরেও কেন তাঁদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে এমন ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে?
অন্যদিকে, এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, একই পাড়ায় সৈয়দ আলি নামে এক মৃত ব্যক্তির নাম দীর্ঘকাল পরলোকগত হওয়া সত্ত্বেও তালিকায় রয়ে গিয়েছে। জীবিতদের ‘ব্রাত্য’ করে মৃতদের নাম রেখে দেওয়ার এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত এই ত্রুটি সংশোধন না হলে আসন্ন নির্বাচনে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করা থেকে বঞ্চিত হবেন। এই চরম অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এবং ভুলের সংশোধনের দাবিতে সরব হয়েছেন মতিহারপুরের শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষ।