নিউজ ডেস্ক: রবিবারের মনোরম সন্ধেটা আচমকাই বিষাদে ভরে উঠল টলিপাড়ার জন্য। আইপিএল-এর উত্তেজনার মাঝেই এল দুঃসংবাদ— আর নেই জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার সীমান্তবর্তী তালসারির সমুদ্রসৈকতে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি। দড়ি ফেলে এবং ইউনিটের সদস্যদের আপ্রাণ চেষ্টায় তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত মুহূর্তে? ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা ধারাবাহিকের পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল জানিয়েছেন, তালসারির সৈকতে একটি শট চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। গোড়ালি ডোবা জলে শ্বেতা ও রাহুল নিজেদের মধ্যে খুনসুটি ও জল ছোড়াছুড়ি করছিলেন। ক্যামেরা চলছিল পিছন দিক থেকে। হঠাৎই শ্বেতার হাত ধরে রাহুলের পা পিছলে যায় এবং তিনি গভীর জলের দিকে চলে যান।
পরিচালকের বয়ানে দুর্ঘটনার মুহূর্ত:
-
অসাবধানতা: হাঁটু সমান জলে থাকাকালীন রাহুল ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ইউনিটের সদস্যরা চিৎকার করে তাঁকে সতর্ক করার আগেই ঢেউয়ের টানে তিনি গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যেতে থাকেন।
-
উদ্ধারকার্য: মুহূর্তের মধ্যে জল রাহুলের গলা পর্যন্ত উঠে আসে। ইউনিটের ১০-১২ জন সদস্য এবং স্থানীয় নৌকার মাঝিরা দড়ি ফেলে দ্রুত তাঁকে জল থেকে তুলে আনেন।
-
হাসপাতালে মৃত্যু: জল থেকে তোলার সময় রাহুলের জ্ঞান ছিল বলে দাবি করেছেন পরিচালক। দ্রুত গাড়িতে করে তাঁকে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যায়।
শোকস্তব্ধ টলিউড:
রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অকাল প্রয়াণে স্তম্ভিত স্টুডিও পাড়া। শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন। সমুদ্রের মতো বিপজ্জনক জায়গায় শুটিং করার সময় কেন আরও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়নি, তা নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। আপাতত অভিনেতার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দিঘা ও তালসারি উপকূল থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ইউনিটের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।