নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে না ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালের কাজ। পরিকাঠামোগত অভাব এবং একগুচ্ছ আইনি প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় নির্বাচন কমিশনের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা। বুধবার সন্ধ্যায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে আয়োজিত বৈঠক কার্যত ভেস্তে যাওয়ায় এখন কয়েক লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের ভবিষ্যৎ ফের চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি এক মহিলা বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, কমিশন যদি এভাবে নিরুত্তর থাকে, তবে ট্রাইব্যুনালের কাজ চালানো অসম্ভব। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, বেশ কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি এই প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন।
বিচারপতিদের তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ও নিরুত্তর কমিশন:
বৈঠকে ট্রাইব্যুনালের সদস্যরা কমিশনের কাছে বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন, যার কোনও সদুত্তর মেলেনি:
-
এসওপি (SOP) কোথায়?: ট্রাইব্যুনাল কোন পদ্ধতিতে কাজ করবে, তার স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নিয়মাবলী এখনও তৈরি করতে পারেনি কমিশন।
-
বিএলও-র গাফিলতি: যদি কোনও ভোটার অভিযোগ করেন যে বিএলও (BLO) তাঁর নথি গ্রহণ করেননি, সেক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের ভূমিকা কী হবে—তা স্পষ্ট নয়।
-
প্রাকৃতিক বিচার: বিচারপতিদের দাবি, প্রত্যেক ভোটারের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা উচিত। কিন্তু সীমিত সময়ে কয়েক লক্ষ ভোটারের শুনানি কীভাবে সম্ভব, তার কোনও পরিকাঠামো নেই।
পরিকাঠামোগত শূন্যতা:
বেহালার এসপি মুখার্জি ইনস্টিটিউশনে ট্রাইব্যুনাল করার কথা থাকলেও, সেখানে প্রয়োজনীয় কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ বা সহায়ক কর্মীদের অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরক্ত এক প্রাক্তন বিচারপতি বৈঠকে প্রশ্ন তোলেন, “কমিশন কি আদৌ এই সমস্যার সমাধান করতে চাইছে, না কি স্রেফ কালক্ষেপ করছে?”
অনিশ্চয়তায় লক্ষ লক্ষ ভোটার:
বুধবারের বৈঠক মুলতুবি হয়ে যাওয়ায় পরবর্তী বৈঠকের কোনও দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারেনি কমিশন। ৬ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হওয়ার কথা। এই অল্প সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করতে না পারলে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই অচলাবস্থা নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে বিরোধী দলগুলি।