নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন ঘটা করে, কিন্তু সোমবার অর্থ দপ্তরের যে নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এল, তাতে স্বস্তির চেয়ে আশঙ্কাই বেশি দেখছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) কবে এবং কীভাবে মেটানো হবে, সে বিষয়ে সোমবারের বিজ্ঞপ্তিতে কোনও স্পষ্ট দিশা নেই। বিশেষ করে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঝুলে থাকা ডিএ-র পাহাড়প্রমাণ বকেয়া নিয়ে অর্থ দপ্তরের ‘নীরবতা’য় তৈরি হয়েছে প্রবল ধোঁয়াশা।
নবান্ন সূত্রে খবর, ২০১৬ সালে এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টাল চালু হলেও ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কর্মরত অফিসার ও কর্মীদের তথ্যের কোনও ডিজিটাল রেকর্ড সেখানে নেই। ফলে ওই সময়ের বকেয়া হিসাব করতে এখন অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের (AG) দ্বারস্থ হতে হবে অর্থ দপ্তরকে। কিন্তু সেই তথ্য কবে সংগ্রহ করা হবে বা কতদিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হবে, বিজ্ঞপ্তিতে তার কোনও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ডিএ আন্দোলনকারীরা।
‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় সরাসরি তোপ দেগে বলেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে ভোটের আগে স্রেফ চমক দিয়েছে রাজ্য সরকার।” তাঁর দাবি, সরকারি হিসেবেই বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ প্রায় ৪১,৪৭০ কোটি টাকা। যার ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১০,৩৫০ কোটি টাকা ৩১ মার্চের মধ্যে মেটানোর কথা ছিল। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মানা হয়নি বলেই অভিযোগ তাঁর। অন্যদিকে, ‘কর্মচারী পরিষদ’-এর সভাপতি দেবাশিস শীলের মতে, রাজ্য সরকারের এই অস্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি আদালত অবমাননারই নামান্তর।
বিরোধীদের দাবি, বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে শিক্ষক বা পুর-কর্মীদের তথ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে রয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য যাচাই করে কবে টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, তা নিয়ে সরকারি স্তরে কোনও হেলদোল নেই। যদিও তৃণমূলপন্থী ‘স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ় ফেডারেশন’-এর নেতা প্রতাপ নায়েক আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, “কেন্দ্রের বঞ্চনা ও নির্বাচনের খরচের মধ্যেও মুখ্যমন্ত্রী যখন আশ্বাস দিয়েছেন, তখন কর্মীরা সময়মতোই টাকা পাবেন।” তবে ভোটের মুখে নবান্নের এই ‘অসম্পূর্ণ’ নির্দেশিকা যে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভের আগুনে ঘৃতাহুতি দিল, তা বলাই বাহুল্য।