নিউজ ডেস্ক: আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে বর্তমানে বহু প্রবীণ নাগরিক সাইবার অপরাধীদের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছেন। ডিজিটাল লেনদেনের খুঁটিনাটি সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকায় প্রতিনিয়ত খোয়া যাচ্ছে কষ্টার্জিত সঞ্চয়। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, মঙ্গলবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহের শান্তিদেব কক্ষে প্রবীণদের সতর্ক করতে এক বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করল বীরভূম জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর। প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা থেকে বাঁচার পথ বাতলে দেওয়াই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।
টার্গেট যখন বয়স্করা: এদিনের কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক পার্থ দাশগুপ্ত, শিশু সুরক্ষা আধিকারিক নিরুপম সিংহ এবং বোলপুরের মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না। প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানান, বর্তমানে ব্যাংকিং পরিষেবা থেকে শুরু করে কেনাকাটা— সবটাই অনলাইন নির্ভর। প্রবীণরা অনেক সময় এই প্রযুক্তিতে সড়গড় না হওয়ায় প্রতারকরা তাঁদের টার্গেট করছে। মূলত ওটিপি (OTP) জালিয়াতি বা ব্যাঙ্ক আধিকারিক সেজে ফোন করে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ইদানীং বীরভূমেও বাড়ছে।
সুরক্ষার দাওয়াই: কর্মশালায় উপস্থিত আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞরা প্রবীণদের পরামর্শ দেন, কোনও অবস্থাতেই যেন অচেনা ফোন কলে প্রলুব্ধ হয়ে বা সন্দেহজনক লিঙ্কে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করা হয়। ব্যাংকিং সংক্রান্ত যে কোনও কাজে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যের সাহায্য নিতে বলা হয়েছে। যদি কেউ প্রতারণার শিকার হন, তবে কালক্ষেপ না করে ‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম রিপোর্টিং পোর্টালে’ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সামাজিক অধিকার ও স্বাস্থ্য: কেবল ডিজিটাল সুরক্ষা নয়, এদিনের সভায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েও বিশদে আলোচনা করা হয়। মহকুমা শাসক অনিমেষকান্তি মান্না জানান, শেষ বয়সে নিঃসঙ্গতা বা শারীরিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে যাতে কেউ তাঁদের হেনস্থা করতে না পারে, সেদিকে প্রশাসন সজাগ রয়েছে। এদিনের অনুষ্ঠানে বোলপুর মহকুমার বহু প্রবীণ নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগে তাঁরা খুশি।