বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। মঙ্গলবার বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। রবিবার বিকেলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। একদিকে যখন লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে দেশের বিরোধী শিবিরের একাংশ, ঠিক সেই আবহে তাঁকে পড়শি দেশে পাঠানোকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশ। অনেকের মতে, এর মাধ্যমে দেশের বিরোধী দলগুলিকেও একটি পরোক্ষ বার্তা দিতে চেয়েছে মোদী সরকার।
তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই ভারত ও বাংলাদেশ— দুই দেশেই তুমুল কৌতূহল ছিল। বাংলাদেশের সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ জানিয়েছিল, ভারত-সহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে জানানো হল, প্রধানমন্ত্রী নন, বরং দিল্লির প্রতিনিধি হয়ে ঢাকা যাচ্ছেন ওম বিড়লা। দিল্লির একটি সূত্রের দাবি, মঙ্গলবার মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত একটি বৈঠক রয়েছে। মূলত সেই কারণেই মোদীর ঢাকা সফর সম্ভব হচ্ছে না।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সে দেশের জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর বিকেল ৪টে নাগাদ সংসদের দক্ষিণ প্লাজ়ায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। বিএনপি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেলা ১২টার মধ্যে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দুই দেশের দায়বদ্ধতার কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির এই পালাবদলে ওম বিড়লার উপস্থিতি ভারতের কূটনীতিতে কোন নতুন মাত্রা যোগ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশেষজ্ঞ মহল।