নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্য দিবালোকে তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন হিংসার সাক্ষী থাকল পুরাতন মালদহ। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর কলোনি এলাকায় এক বহিরাগত যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল উত্তেজিত জনতার বিরুদ্ধে। মৃত যুবকের নাম জয় মণ্ডল (২০), তাঁর বাড়ি সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাতিয়ান মোড় গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের এক রাজমিস্ত্রি যুবকের কাছে ৫ লক্ষ টাকা তোলা দাবি করছিল একদল বহিরাগত দুষ্কৃতী। অভিযোগ, টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দুষ্কৃতী দলটি ফের এলাকায় চড়াও হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে গুলি চালায়, যা শুনে বাসিন্দারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এরপরই পালানোর চেষ্টায় থাকা কয়েকজনকে ধরে গণপিটুনি দেয় জনতা। খবর পেয়ে মালদহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জখমদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা জয়কে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রিয়াঙ্কা গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “গত দেড় বছর ধরে বহিরাগতদের একটি গ্যাং এলাকায় রাজত্ব চালাচ্ছে। কেউ ব্যবসা করলে বা বাড়ি বানালে মোটা টাকা তোলা চাওয়া হয়।” তবে পুলিশের গুলিতে জয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁর আত্মীয় উকিল মণ্ডল। যদিও জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় গুলি চালনার তত্ত্ব সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “গণপিটুনিতেই জখম হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে, পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন।” ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে মালদহ থানার পুলিশ। এলাকায় আতঙ্ক এতটাই যে, বাসিন্দারা কার্যত মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন।