নিউজ ডেস্ক: স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিস্পন্দ হয়ে পড়ে এক ব্যক্তি। যাত্রীদের দাবি, দেহে প্রাণের স্পন্দন নেই। অথচ সেই ‘দেহ’ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো তো দূরস্ত, দায় কার— সেই আইনি তর্কেই কাটল ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সোমবার রাতে দমদম স্টেশনে রেল পুলিশ (জিআরপি), আরপিএফ এবং রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে দীর্ঘক্ষণ ২ এবং ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের মাঝের বেঞ্চে পড়ে রইলেন ওই ব্যক্তি। গভীর রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় রেলের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় ও রেল সূত্রে খবর, সোমবার রাত ১০টা নাগাদ বছর পঞ্চাশের ওই ব্যক্তিকে প্ল্যাটফর্মের বেঞ্চে পড়ে থাকতে দেখেন যাত্রীরা। তাঁর পরনে ছিল জ্যাকেট, টি-শার্ট এবং কোমরে গামছা জড়ানো। অনেক ডাকাডাকির পরেও সাড়া না মেলায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। খবর দেওয়া হয় রেল পুলিশ ও আধিকারিকদের। কিন্তু অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং রেলকর্মীরা পৌঁছলেও ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোনো সদিচ্ছাই দেখাননি কেউ। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত একই ভাবে নিস্পন্দ অবস্থায় পড়েছিলেন তিনি।
জিআরপির দাবি, স্টেশনে কেউ অসুস্থ হলে বা মৃত্যু হলে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব আরপিএফের। অন্যদিকে, রেলের এক কর্মীর বয়ানে উঠে এসেছে চরম অসংবেদনশীলতার ছবি। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তিকে মৃত বলেই মনে হচ্ছে, জীবিত হলে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হত। প্রশ্ন উঠছে, সরকারিভাবে চিকিৎসক না আসা পর্যন্ত কাউকে ‘মৃত’ ধরে নিয়ে ফেলে রাখা কতটা যুক্তিসঙ্গত? জিআরপির এক কনস্টেবল জানান, সেই সময় অন্য একটি স্টেশনে দুর্ঘটনা ঘটায় আধিকারিকরা সেদিকে ব্যস্ত ছিলেন এবং রাতে চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছিল না বলেই এই বিলম্ব।
এই দায় ঠেলার পালা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় প্ল্যাটফর্মে পড়ে রইল ওই দেহ। যাত্রীদের ক্ষোভ, যেখানে পুলিশ বা আরপিএফ উদ্যোগ নিলে কোনো আইনি জটিলতার ভয় ছিল না, সেখানে কেন এভাবে মানবিকতাকে বিসর্জন দেওয়া হলো? মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ওই ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি।