নিউজ ডেস্ক: ব্যবসার মন্দার বাজারে এবার খোদ দোকানের নামফলক বা ব্র্যান্ডিং নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়লেন কলকাতার ব্যবসায়ীরা। নিজের দোকানের নাম গ্লোসাইন বোর্ড বা এলইডি আলোয় সাজালে এখন থেকে গুনতে হবে মোটা অঙ্কের কর। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে শহরের অসংখ্য ছোট-বড় দোকানদারকে এই সংক্রান্ত নোটিস পাঠানো শুরু হতেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। নিজের দোকানের পরিচয়টুকু দেওয়ার জন্যও কেন কর দিতে হবে, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরা।
পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগের পাঠানো ওই নোটিসে সাফ জানানো হয়েছে, দোকানগুলি যেহেতু নিজস্ব নাম বা কোনও ব্র্যান্ডের প্রচার করছে, তাই তা বিজ্ঞাপনের আওতায় পড়বে। আর বিজ্ঞাপনের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর মেটানো বাধ্যতামূলক। এমনকি এতদিন কেন এই কর দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে শো-কজ বা কারণ দর্শানোর নোটিসও ধরানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের পাল্ট দাবি, ‘গার্বেজ ট্যাক্স’ বা ‘শেড ট্যাক্স’-এর মতো হাজারো করের বোঝা এমনিতেই রয়েছে, তার ওপর দোকানের নাম টাঙানোর জন্য হাজার হাজার টাকা দাবি করাটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্লোসাইন বোর্ডের জন্য আগে বর্গফুট পিছু কর ছিল ৭০ টাকা, যা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি বছর এই হারে কর মেটাতে হবে পুরসভাকে। যদি কোনও শোরুম বা দোকানের সামনে এলইডি আলোয় ব্র্যান্ডিং করা হয়, তবে তার খরচ আরও চড়া— প্রতি বর্গফুটে বছরে ৫০০ টাকা। এক সময় এই হার আরও বেশি থাকলেও বর্তমানে তা কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে বলে দাবি পুরকর্তাদের।
পুরসভা সূত্রে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে যে, নিয়ম থাকলেও এতদিন কর্মী সংকটের কারণে এই কর আদায়ে তেমন কড়াকড়ি ছিল না। গত তিন বছর ধরে এই খাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে মাত্র ৩০টি শোরুম থেকে কর নেওয়া হতো, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫০ ছাড়িয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, এই নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে না। কেউ নোটিস পাচ্ছেন, আবার কেউ দিব্যি ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করে করের বোঝা কমানোর দাবিতে সরব হয়েছেন কলকাতার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি।