তিল ধারণের জায়গা নেই। গত কয়েক দশক ধরে মহানগরের টন টন আবর্জনা বইতে বইতে ক্লান্ত ধাপার জঞ্জালভূমি কার্যত মৃতপ্রায়। এই পরিস্থিতিতে কলকাতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল, তার অবশেষে অবসান হতে চলেছে। শহরের জঞ্জাল ফেলার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিকল্প জমির খোঁজ মিলল বাসন্তী হাইওয়ের ধারেই। পুরসভা সূত্রে খবর, ৫৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত খানাবেড়িয়া ও দুর্গাপুর গ্রামে প্রায় ৭৩ হেক্টর জমি নতুন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ওই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের কাছ থেকে প্রায় ৭০ একর জমি কিনে নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। ২০১১ সালের পর ধাপা সংলগ্ন এলাকায় মাত্র ১০ হেক্টর জমি কেনা সম্ভব হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রসপুঞ্জ-সহ একাধিক এলাকায় জমির খোঁজ চালানো হলেও নানা জটিলতায় তা সফল হয়নি। অবশেষে বাসন্তী হাইওয়ের ধারের এই জমিটিকেই ‘উপযুক্ত’ বলে বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরসভার দাবি, ধাপার মতো এখানে আর জঞ্জালের পাহাড় তৈরি হবে না। বরং পরিবেশ আদালতের নির্দেশিকা মেনে এখানে গড়ে তোলা হবে আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত ‘ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ল্যান্ডফিল্ড’।
পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, “শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এখন আবর্জনার চাপ কয়েক গুণ বেশি। বিকল্প ব্যবস্থা না হলে চরম বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা ছিল।” ধাপার পুরনো জমিতে বর্তমানে সার কারখানা ও প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট থাকলেও তা মহানগরের জন্য পর্যাপ্ত নয়। নতুন এই প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট থাকবে, যা শহরের জঞ্জাল ব্যবস্থাপনায় নতুন দিশা দেখাবে বলে আশাবাদী পুর কর্তৃপক্ষ।