নিউজ ডেস্ক: ভোটের মুখে নাকা চেকিংয়ে সাধারণত বেআইনি টাকা, অস্ত্র বা মাদক উদ্ধার হয়। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে ঘটল এক নজিরবিহীন ঘটনা। সোমবার রাতে রুটিন তল্লাশিতে এক চারচাকার গাড়ি আটকে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ কর্মীদের। গাড়ির ভেতরে কনের সাজে বসে থাকা এক ১৬ বছরের কিশোরীকে উদ্ধার করল সবং থানার পুলিশ। পুলিশের এই অতর্কিত তৎপরতায় মাঝরাস্তাতেই ভেস্তে গেল এক নাবালিকার বিয়ে।
ঘটনাটি ঘটেছে সবং থানার দেহাটি নাকা চেকিং পোস্টে। সোমবার রাত ১০টা নাগাদ সবং থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি গাড়ি। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ গাড়িটি আটকালে চালক ও আরোহীরা ঘাবড়ে যান। টর্চের আলো গাড়ির ভেতরে পড়তেই দেখা যায়, কনের সাজে মাথা নিচু করে বসে আছে এক নাবালিকা। বয়সের প্রমাণপত্র চাইতেই পরিবারের লোকজনের বয়ানে অসঙ্গতি মেলে। জেরার মুখে কিশোরী নিজেই কবুল করে যে তার বয়স এখনও ১৮ হয়নি এবং এই বিয়েতে তার মত নেই।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই পরিবার সবংয়ের দশগ্রাম অঞ্চলের বাসিন্দা। কিশোরীর অমত থাকা সত্ত্বেও পূর্ব মেদিনীপুরের এগরার এক পাত্রের সঙ্গে চুপিচুপি মন্দিরে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পরিবারের। নাকা চেকিংয়ের মুখে পড়ে সেই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। সবং থানার ওসি শুভঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে পুলিশ পরিবারটিকে থানায় নিয়ে যায় এবং মুচলেকা লিখিয়ে ওই নাবালিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা করে।
উল্লেখ্য, সবং থানার পুলিশ গত কয়েকদিনে একের পর এক বাল্যবিবাহ রুখে দিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মঙ্গলবারও গোবিন্দপুর এলাকায় আরও একটি নাবালিকার বিয়ে বন্ধ করেছে তারা। জেলা পরিষদের শিশু ও নারী কল্যাণ সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শান্তি টুডু পুলিশের এই মানবিক ও সামাজিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। নাকা চেকিং যে শুধু অপরাধী নয়, সামাজিক অপরাধ রুখতেও কতটা কার্যকর হতে পারে, তা প্রমাণ করে দিলেন সবংয়ের ‘পুলিশ কাকুরা’।