নিউজ ডেস্ক: স্রেফ সাসপেনশনই নয়, এবার আইনি বিপাকে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও তথা এআরও (ARO) জ্যোৎস্না খাতুন। সরকারি পদে থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে খণ্ডঘোষ থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হলো। বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমাশাসক তথা খণ্ডঘোষ বিধানসভার রিটার্নিং অফিসার বুদ্ধদেব পান এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্বাচনের মুখে একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন পুলিশি পদক্ষেপের ঘটনা রাজ্যে কার্যত নজিরবিহীন।
ফেসবুক পোস্ট ও সাসপেনশন
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ এপ্রিল। জানা গিয়েছে, জ্যোৎস্না খাতুন তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ‘সার’ (SIR)-এর কড়া সমালোচনা করে একটি পোস্ট করেছিলেন। অভিযোগ, সেই পোস্টে তিনি নির্বাচন কমিশনারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে সম্বোধন করেন। এমনকি ওই প্রক্রিয়ায় তাঁর নিজের নামও বাদ যাওয়ায় তিনি ক্ষোভ উগরে দেন। বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ সেই পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে কমিশনে ইমেল মারফত অভিযোগ জানান। এর পরেই কমিশন জ্যোৎস্নাকে তড়িঘড়ি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়।
জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা
বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি এবার তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও শুরু হলো। পুলিশ সূত্রে খবর, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩৫২ নম্বর ধারা (ইচ্ছাকৃত অপমান ও শান্তিভঙ্গের চেষ্টা) এবং ৩৫৩ নম্বর ধারায় (মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুজব ছড়ানো) মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, জ্যোৎস্না খাতুন মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সমাজে হিংসা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। খণ্ডঘোষ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্ধমানে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কথা কাটাকাটি। জেলা বিজেপি নেতা রামানন্দ মজুমদারের কটাক্ষ, ‘‘প্রশাসনের একাংশ আধিকারিক এখন তৃণমূলের দলদাসে পরিণত হয়েছেন। একজন বিডিও কীভাবে কমিশনকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলতে পারেন? এ তো রাজনৈতিক নেতাদের ভাষা।’’ অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলামের পাল্টা দাবি, ‘‘বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই যে কমিশন চলছে, এটা তার প্রমাণ। একজন আধিকারিক কি তাঁর নিজের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে কথা বলার অধিকারও রাখবেন না?’’
সব মিলিয়ে ভোট আবহে এক বিডিও-র ‘ফেসবুক বিতর্ক’ এখন পূর্ব বর্ধমানের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।