নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের কড়া ‘নিদান’ কার্যকর হতেই রাতারাতি বদলে গেল দুই ২৪ পরগনার একঝাঁক নেতা ও ব্যবসায়ীর দৈনন্দিন জীবন। শুক্রবার রাত থেকেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের একাধিক জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যার জেরে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চরম ‘নিরাপত্তাহীনতা’ ও উদ্বেগের বাতাবরণ। বারাকপুরের আতঙ্কিত ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ভাঙড়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব— গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কমিশনের এই রক্ষী-প্রত্যাহার কর্মসূচি।
সুবোধ সিংয়ের আতঙ্ক ও বারাকপুরের ব্যবসায়ীরা:
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের সবথেকে বড় কোপ পড়েছে বারাকপুরের ব্যবসায়ী মহলে। বিশেষ করে সুবোধ সিংয়ের মতো কুখ্যাত মাফিয়ার হিট-লিস্টে থাকা ব্যবসায়ী অজয় মণ্ডলের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
-
পুরনো ক্ষত: ২০২৪-এর জুনে বেলঘরিয়ার রথতলায় অজয়বাবুর গাড়ি লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি চালিয়েছিল সুবোধ বাহিনী। কপাল জোরে বেঁচে ফিরলেও এখনও মাঝেমধ্যেই তাঁর কাছে হুমকি ফোন আসে বলে অভিযোগ।
-
বর্তমান পরিস্থিতি: বারাকপুর কমিশনারেট থেকে দেওয়া দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষীকে শুক্রবার হঠাৎই ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই ভয়ে কার্যত ঘরবন্দি ওই ব্যবসায়ী। একই দশা রেস্তরাঁ ব্যবসায়ী তাপস ভকতেরও। তোলা চেয়ে হুমকির জেরে তিনিও পুলিশি সুরক্ষা পেতেন।
ভাঙড়ের বারুদ ও নেতার নিরাপত্তা:
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকা এমনিতেই রাজনৈতিকভাবে ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে পরিচিত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যে পরিমাণ রক্তপাত দেখেছিল ভাঙড়, তার স্মৃতি এখনও টাটকা।
-
উদ্বিগ্ন প্রার্থীরা: ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী বাহারুল ইসলামের তিন জন সশস্ত্র রক্ষীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাহারুলের কথায়, “এখানে যেভাবে বোমা-বন্দুকের রাজনীতি চলে, তাতে ভোটের মুখে নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া মানে বিরোধীদের জন্য পথ প্রশস্ত করা।”
-
তালিকা দীর্ঘ: বাহারুল ছাড়াও খাইরুল ইসলাম, মমিনুল ইসলাম, শাহজাহান মোল্লাদের মতো স্থানীয় ও জেলা পরিষদ স্তরের নেতাদের নিরাপত্তা বলয়ও শুক্রবার রাত থেকে উধাও।
প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং যাঁদের প্রাণের বাস্তবিক ঝুঁকি বা ‘থ্রেট পারসেপশন’ কম বলে মনে করছে কমিশন, তাঁদের তালিকাই প্রথমে কার্যকর করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের একাংশের প্রশ্ন, অপরাধী বা মাফিয়াদের হাত থেকে সুরক্ষার যে দায় প্রশাসনের ছিল, ভোটের আবহে তা এভাবে একতরফা ভাবে তুলে নেওয়া কি আদেও যুক্তিযুক্ত? কমিশনের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কি শেষমেশ শিল্পাঞ্চল ও ভাঙড়ের শান্তি বিঘ্নিত করবে, এখন সেটাই দেখার।