নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: পেশায় তিনি কলম আর নকশার মানুষ, মালদহ ইংলিশবাজার পুরসভার বৈদ্যুতিক বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু অফিসের ফাইল আর বিদ্যুতের হিসেব নিকেশের বাইরে আকাশ চক্রবর্তীর এক অন্য জগত রয়েছে। গত কয়েক দশকে তিলে তিলে তিনি গড়ে তুলেছেন এক বিস্ময়কর ডাকটিকিটের সংগ্রহশালা। তাঁর অ্যালবামে ঠাঁই পেয়েছে বিশ্বের ১৯৫টি দেশের বিরল সব ডাকটিকিট। এমনকি স্বীকৃতি না পাওয়া বহু ছোট দ্বীপপুঞ্জের নিজস্ব টিকিটও সযত্নে সাজিয়ে রেখেছেন তিনি।
আকাশের এই নেশা কেবল জমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রতিটি দেশের ইতিহাস আর বৈশিষ্ট্য তাঁর নখদর্পণে। তাঁর সংগ্রহে যেমন রয়েছে মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশতবর্ষ বা মেসোপটেমিয়ার যুদ্ধের স্মৃতিমাখা টিকিট, তেমনই রয়েছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লড়া ভারতীয় সেনাদের সম্মান জানিয়ে প্রকাশিত বিশেষ ডাকটিকিট। রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান থেকে শুরু করে বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক বিভূতিভূষণ, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বা পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ— ডাকবিভাগের প্রকাশিত হরেক স্মৃতি-স্মারক তাঁর অ্যালবামের শোভা বাড়াচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ার আকাশবাবুর সংগ্রহের বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বিদেশের বৈচিত্র্য। তিনি দেখালেন আলবেনিয়ার বিশেষ টিকিট, কিংবা গাম্বিয়ার সেই বহুমূল্য ‘গোল্ড প্লেটেড’ ডাকটিকিট। জাপানের নিপ্পন লেখা কুকুরের ছবিওয়ালা টিকিট হোক বা কাতারের গোলাকার টিকিট— আকাশের ঝোলায় সব মজুত। তাঁর কথায়, “কৈশোর থেকেই এই নেশা আমায় পেয়ে বসেছে। উপার্জনের একটা অংশ আমি পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের বিশেষ অ্যাকাউন্টে রাখি নতুন নতুন মিন্ট টিকিট সংগ্রহের জন্য।”
পুরসভার চারতলায় আকাশের এই শখের কথা জানেন খোদ চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীও। তিনি বলেন, “কাজের চাপের মাঝে এমন শখ মনকে সতেজ রাখে। আমাদের এই নবীন ইঞ্জিনিয়ারের সংগ্রহের নেশা অন্যদেরও উৎসাহিত করবে।” কাজের ফাঁকে যখনই সময় পান, দেশ-বিদেশের ইতিহাসের এই ছোট ছোট রঙিন টুকরোগুলো নিয়ে চর্চায় মেতে ওঠেন আকাশ।