নিউজ ডেস্ক: পঞ্চায়েত অফিসে কাজের জন্য এসে জখম হলেন দুই মহিলা। বুধবার দুপুরে হাওড়ার আমতা দুই নম্বর ব্লকের অমরাগড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে আচমকাই ভবনের চূড়ার অংশ ভেঙে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জীর্ণ ভবনের পরিকাঠামো এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হনুমানের দাপট ও বিপত্তি: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ অমরাগড়ি পঞ্চায়েত অফিসে বেশ কিছু মানুষ কাজের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। সেই সময় দুটি হনুমান এসে হঠাৎ অফিসের পুরোনো ভবনের ছাদে লাফালাফি শুরু করে। ভবনটি বহু পুরোনো হওয়ায় এমনিতেই জীর্ণ অবস্থায় ছিল। হনুমানের দাপটে চূড়ার অংশ থেকে চাঙড় ও ইটের বড় টুকরো খসে পড়ে নিচে অপেক্ষারত দুই মহিলার ওপর।
রক্তাক্ত অফিস চত্বর: ইটের একটি বড় টুকরো সরাসরি এক মহিলার মাথায় পড়ায় তাঁর মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। অন্য এক মহিলার পায়ের ওপর ইটের টুকরো পড়লে তিনিও আহত হন। ঘটনার পরেই উপস্থিত জনতা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে জয়পুরের বিবি ধর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মাথায় আঘাত পাওয়া মহিলার পরিস্থিতি যথেষ্ট গুরুতর হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। অন্যজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।
জীর্ণ ভবনের সংস্কার নিয়ে প্রশ্ন: এই পঞ্চায়েত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই সংস্কারের অভাবে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এদিনের দুর্ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসীরা। অমরাগড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মুন্না দলুই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ভবনের চূড়ার ওই অংশটা আগে থেকেই অত্যন্ত দুর্বল ছিল। হনুমানের লাফালাফিতেই চাঙড় খসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমরা প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি দেখছি এবং দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।’