নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসক সংকট থেকে শুরু করে রোগীদের রেফার করার প্রবণতা— সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের। কিন্তু সেই সমস্ত প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতাকে জয় করেই ফের সাফল্যের শিখরে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সুশ্রী কায়াকল্প’ (Kayakalp Award 2026) প্রকল্পে টানা চতুর্থবার রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করল এই প্রান্তিক হাসপাতালটি।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের অধীনস্থ ‘ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম রিসোর্স সেন্টার’ প্রতি বছর দেশের হাসপাতালগুলির পরিচ্ছন্নতা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রসূতি ও শিশুমৃত্যু হ্রাসের মতো আটটি কঠিন মাপকাঠির ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করে। ২০২৫-২৬ বর্ষের প্রকাশিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে সেরার শিরোপা ধরে রেখেছে বালুরঘাট। এই সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কার স্বরূপ ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে হাসপাতালটির জন্য। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, কলকাতা বা শিলিগুড়ির (তালিকায় পঞ্চম স্থান) মতো বড় শহরের হাসপাতালগুলিকে পিছনে ফেলে বালুরঘাটের এই জয়যাত্রা নজর কেড়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলের।
তবে সাফল্যের আবহেও কিছুটা আক্ষেপের সুর শোনা যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গলায়। গত বছর বীরভূমের সিউড়ি হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম হলেও সেই পুরস্কারের ২৫ লক্ষ টাকা এখনও হাতে পায়নি বালুরঘাট। তবে এবারের বরাদ্দ ৫০ লক্ষ টাকা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও রোগী পরিষেবার মানোন্নয়নে সরাসরি ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগের কথায়, “প্রচুর খামতি থাকা সত্ত্বেও আমরা সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এই সম্মান আমাদের দায়বদ্ধতা আরও বাড়িয়ে দিল।” স্থানীয় স্তরে কিছু অভিযোগ থাকলেও, প্রান্তিক জেলার এই সাফল্যে খুশি জেলার বাসিন্দারাও।