নিউজ ডেস্ক: পিলখানায় প্রোমোটার খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত হাওড়া। এবার সালকিয়ার বিবির বাগান এলাকায় সামান্য বচসাকে কেন্দ্র করে চলল গুলি। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ রাহুল পাল নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় স্থানীয় এক দুষ্কৃতী। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন ওই যুবক। ঘটনার তদন্তে নেমে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ মূল অভিযুক্ত আকাশ যাদব ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। ভোটের মুখে এই শ্যুটআউটের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত: পুরনো শত্রুতা ও বচসা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার শিকড় লুকিয়ে রয়েছে মাস দুয়েক আগের একটি ঝামেলায়।
-
হুমকি: অভিযুক্ত ভিকি দলুইয়ের সঙ্গে রাহুলের ভাইয়ের আগে থেকেই বিবাদ ছিল। ভিকি এর আগে তাঁদের গুলি করার হুমকিও দিয়েছিল।
-
মঙ্গলবার রাতের উত্তেজনা: রাত ১০টা নাগাদ রাহুল ও তাঁর ভাই দাঁড়িয়ে থাকার সময় ভিকি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় ফের উস্কানিমূলক মন্তব্য করে। এর ফলে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং রাহুলের ভাই ভিকিকে মারধর করেন।
-
গুলি চালনা: মার খেয়ে পালিয়ে গিয়ে ভিকি ফোন করে এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী আকাশ যাদবকে। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আকাশ দলবল নিয়ে এসে সরাসরি রাহুলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ভাগ্যবশত গুলিটি লাগেনি।
সাহসিকতার পরিচয় দিলেন স্থানীয়রা:
গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরই স্থানীয় বাসিন্দারা একজোট হয়ে রুখে দাঁড়ান। তাঁরা ধাওয়া করে অভিযুক্ত আকাশের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি কেড়ে নেন। বেগতিক বুঝে আকাশ ও তার সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গোলাবাড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। রাহুলের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করে রাতেই তিনজনকে পাকড়াও করা হয়।
নজরে বিবির বাগানের ‘গ্যাং’:
তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতরা প্রত্যেকেই এলাকার একটি সংগঠিত দুষ্কৃতী দলের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে:
-
সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি: এলাকায় প্রোমোটিং, বেআইনি পার্কিং এবং ছিনতাইয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল এই দলের হাতে।
-
জমি দখল: বন্দুকের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি বা বাড়ি খালি করানোর কাজেও এই গ্যাং ব্যবহার করা হত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
-
ভোটের আগে আতঙ্ক: সম্প্রতি পিলখানায় আফগান নাগরিক হারুণের গুলিতে প্রোমোটার খুনের ঘটনার পর সালকিয়ার এই ঘটনা হাওড়া সিটি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
গোলাবাড়ি থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে এই চক্রের বাকি সদস্যদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে যাতে ভোটের আগে নতুন করে কোনও অশান্তি না ছড়ায়।