নিউজ ডেস্ক: হাওড়ার পিলখানায় প্রোমোটার সৌফিক খান হত্যাকাণ্ডে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে মূল দুই অভিযুক্ত। বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির জামা মসজিদ এলাকা থেকে হারুন খান এবং রোহিত হোসেনকে গ্রেফতার করেছেন হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দারা। খুনের পর কলকাতা থেকে বিহার হয়ে দিল্লিতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তাঁরা। ধৃতদের সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাতসকালে পিলখানায় সৌফিক খানকে গুলি করে খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল এলাকা। সেই থেকেই ফেরার ছিলেন হারুন ও রোহিত। হাওড়া পুলিশ (উত্তর)-এর সুপার শেখ হবিবুল্লাহ জানিয়েছেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। জানা গিয়েছে, বিহার থেকে পালানোর পর দিল্লির জামা মসজিদ সংলগ্ন একটি ডেরায় আত্মগোপন করেছিলেন তাঁরা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হানা দিয়ে তাঁদের পাকড়াও করা হয়।
এর আগে এই ঘটনায় মহম্মদ বিলাল ওরফে রিঙ্কু, মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না এবং দিলদার হোসেনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বড়বাজার এলাকায় মুন্নার বাড়ির জলের ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হয়েছিল খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও ম্যাগাজিন। মুন্না পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছিলেন যে, খুনের পর হারুন ও রোহিত তাঁর কাছেই অস্ত্র লুকিয়ে রেখে চম্পট দিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এক সময়কার অভিন্নহৃদয় বন্ধু সৌফিক ও হারুনের সম্পর্কে চিড় ধরেছিল কয়েক বছর আগে গোলাবাড়িতে একটি গুলি চালনার ঘটনার পর। দুজনেই জেল খাটেন এবং বেরোনোর পর আলাদা দল তৈরি করে একে অপরের শত্রুতে পরিণত হন। এই রেষারেষির জেরেই প্রাণ দিতে হলো সৌফিককে। সিআইডি এখন তাঁদের জেরা করে এই ঘটনার পিছনে আরও কোনও প্রভাবশালী মাথা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে।