নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পুনর্নির্বাচন বা ‘রিপোল’ হবে কি না, তা এবার নির্ধারিত হবে মাইক্রো অবজার্ভারদের পেনের এক খোঁচায়। আগে প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরি বা ১৭এ (17A) ফর্মের ওপর ভিত্তি করে স্ক্রুটিনির পর পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হত। কিন্তু এবার সেই নিয়মে আমূল বদল এনে মাইক্রো অবজার্ভারদের হাতে কার্যত ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ তুলে দিল নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, কন্ট্রোল রুমে বসে থাকা এই পর্যবেক্ষকরা কোনও বুথ সম্পর্কে সামান্যতম বিরূপ রিপোর্ট দিলেই সেই বুথ সরাসরি পুনর্নির্বাচনের আওতায় চলে আসবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল এবং বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, এবার কেবল বুথের ভেতরের গোলযোগ নয়, নজর রাখা হবে বুথের বাইরের পরিস্থিতির ওপরও। যদি কোনও ভোটার বুথে পৌঁছানোর আগে বাইরে বাধা পান বা ভোট দিতে না পারেন, তবে কমিশন ধরে নেবে সংশ্লিষ্ট বুথটি ‘ক্যাপচার’ করা হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে মাইক্রো অবজার্ভারদের ওপর।
ক্ষমতা ও নজরদারির নয়া বিন্যাস:
-
সরাসরি রিপোর্ট: মাইক্রো অবজার্ভাররা তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট বুথ সম্পর্কে কোনও নেতিবাচক রিপোর্ট দিলেই স্ক্রুটিনির তোয়াক্কা না করে রিপোল ঘোষণা হতে পারে।
-
কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি: সুব্রত গুপ্ত জানিয়েছেন, একেকটি কন্ট্রোল রুমে বসে দু’জন করে মাইক্রো অবজার্ভার একসঙ্গে ১২ থেকে ১৬টি বুথের ওপর কড়া নজর রাখবেন।
-
এলাকা ভিত্তিক দায়িত্ব: একটি বুথের অধীনে থাকা সম্পূর্ণ ভৌগোলিক এলাকায় কোনও অশান্তি হচ্ছে কি না, তার রিপোর্ট দেওয়ার দায়িত্বও এখন তাঁদের কাঁধে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটার তালিকায় লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি (Logical Discrepancy) বা ‘সন্দেহজনক’ ভোটার চিহ্নিতকরণের পর এবার ভোটের ময়দানেও মাইক্রো অবজার্ভারদের এই বিপুল ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে রাজ্যে পুনর্নির্বাচনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কমিশন প্রিসাইডিং অফিসারের চিরাচরিত রিপোর্টের চেয়ে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের তথ্যের ওপর বেশি ভরসা করতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে।