নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শ্রমজীবী নারীদিবসে এবার চেনা ছক ভাঙল পূর্ব মেদিনীপুর। কোনো নামজাদা বক্তা বা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব নয়, রবিবার কাঁথির মঞ্চে নিজেদের যন্ত্রণার কথা শোনালেন প্রান্তিক মৎস্যজীবী মহিলারা। সমাজের মূলস্রোত থেকে দূরে থাকা এই শ্রমজীবী নারীরাই এদিন অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন, যেখানে কোনো পুরুষ সদস্যের সহযোগিতা ছাড়াই তাঁরা তুলে ধরলেন ঘরের অন্দর থেকে সমুদ্রের ঢেউ— সর্বত্র তাঁদের লড়াইয়ের কথা।
মজুরিতে আকাশ-পাতাল বৈষম্য: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মৎস্যজীবী ফোরামের মহিলা শাখার এই প্রথম নারী দিবস পালনের মঞ্চে বারবার উঠে এল সম-মজুরির দাবি। সংগঠনের সহ-সম্পাদিকা সাহিদা বিবি আক্ষেপের সুরে বলেন, “খটিতে পুরুষদের সঙ্গে মহিলারা সমান কাজ করলেও পুরুষরা পান ১০০০ টাকা, আর আমরা পাই মাত্র ৩০০-৩৫০ টাকা।” ভোর থেকে সংসারের কাজ সামলে স্বামীর সঙ্গে নৌকা নিয়ে মাঝসমুদ্রে মাছ ধরতে গেলেও নৌকার মালিকানা জোটে না মহিলাদের কপালে।
বঞ্চনা ও সামাজিক লাঞ্ছনা: মৎস্যজীবী মহিলারা অভিযোগ করেন, তাঁরা ঘরে-বাইরে প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার। শুধু শারীরিক পরিশ্রম নয়, কর্মক্ষেত্রে পোশাক নিয়েও কটূক্তি শুনতে হয় তাঁদের। মৎস্যজীবী বিজলি গিরি বলেন, “কাজ করতে গিয়ে শাড়ি এদিক-ওদিক হলে কথা শুনতে হয়, অথচ পুরুষদের ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম নেই। তার ওপর রয়েছে মদ্যপ স্বামীর অত্যাচার ও সংসারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারহীনতা।”
সরকারি উদাসীনতা ও পরিকাঠামোর অভাব: অনুষ্ঠানে মৎস্যজীবীদের ‘সমুদ্রসাথী’ প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়া এবং খটিগুলিতে মহিলাদের জন্য শৌচাগার না থাকার বিষয়টিও জোরালোভাবে উঠে আসে। সংগঠনের জেলা সম্পাদক শ্রীদেবী কর ভুঁইয়া জানান, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আধিকারিকরা পুরুষদেরই অগ্রাধিকার দেন। তাঁর প্রশ্ন, “মহিলারা যদি নন্দীগ্রাম থেকে দিঘা পর্যন্ত পদযাত্রায় সামনের সারিতে হাঁটতে পারেন, তবে অধিকার আদায়ে কেন পিছিয়ে থাকবেন?”
কাঁথি সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই সভায় প্রান্তিক মৎস্যজীবী মহিলারা সাফ জানিয়ে দিলেন, সম-মজুরি আর সামাজিক সম্মানের দাবিতে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।