নিউজ ডেস্ক: সড়ক বা রেলপথ নয়, মাদক পাচারের নিরাপদ করিডোর হিসেবে এবার আকাশপথকে বেছে নিচ্ছে কারবারিরা। তবে শেষরক্ষা হল না। মালদা জেলা পুলিশের তৎপরতায় ফাঁস হয়ে গেল মাদক পাচারের এক অভিনব আন্তর্জাতিক মানের চক্র। বিমানবন্দরের কড়া নজরদারি এড়াতে ‘অর্গানিক পুষ্টিকর খাদ্য’ বা ‘হার্বাল নিউট্রিশন’ লেখা সিল করা জারে ভরে পাচার করা হচ্ছিল ব্রাউন সুগার তৈরির কাঁচামাল। কলকাতা ও গোয়া বিমানবন্দরে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে এই চক্রের পর্দা ফাঁস করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩১ জানুয়ারি কলকাতার নিউটাউন থেকে সোহেল আখতার ও বেনারুল শেখ নামে দুই কারবারিকে গ্রেফতারের পরেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। ধৃতদের জেরা করে হিমাচল প্রদেশ ও গুরুগ্রামে হানা দিলেও বারবার অবস্থান বদল করে পুলিশকে ফাঁকি দিচ্ছিল চক্রের বাকি সদস্যরা। অবশেষে মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে জানা যায়, অভিযুক্তরা দিল্লি থেকে বিমানে গোয়ায় গা ঢাকা দিয়েছে। মালদা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোয়া পৌঁছায় এবং স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে বিমানবন্দর থেকেই গ্রেফতার করা হয় কালিয়াচকের বাসিন্দা ইসমাইল শেখ, সৌরভ আলি, মিজানুর রহমান এবং আবদুল শুভমকে।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই চক্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল মণিপুরের ইম্ফল। সেখান থেকে ‘ভেষজ খাদ্য’র লেবেল সেঁটে বিমানে কাঁচামাল আসত কলকাতায়। এরপর সড়কপথে তা পৌঁছে যেত কালিয়াচকে, যেখানে তৈরি হতো মারণ মাদক ব্রাউন সুগার। পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সিল করা জার থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম মাদক তৈরির কাঁচামাল পাওয়া গিয়েছে।” ধৃতরা প্রত্যেকেই কালিয়াচকের বাসিন্দা হলেও তাঁদের বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং নামী ব্র্যান্ডের পোশাক ও দামি গাড়ির ব্যবহার দেখে তাজ্জব তদন্তকারীরা। এই কারবারের নেপথ্যে আরও বড় কোনও রাঘববোয়াল জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।