নিউজ ডেস্ক: সরকারের একাধিক প্রকল্পের কাজ শেষ করেও মেলেনি পাওনা টাকা। দেনার দায়ে জর্জরিত হয়ে শেষ পর্যন্ত বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হলেন কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের সুদপুর পঞ্চায়েতের এক ঠিকাদার। মৃতের নাম সমীর মণ্ডল (৫২)। শনিবার বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর, সমীরবাবু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ ঠিকাদার ছিলেন। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ‘পথশ্রী’ প্রকল্পের কাজ করতে গিয়ে বাজার থেকে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা ধার করেছিলেন তিনি। সেই দেনা মেটাতে স্ত্রীর গয়না বন্ধক রাখা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক ঋণ— সবই নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও সরকারের ঘর থেকে টাকা না আসায় চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি নশিপুর এলাকায় প্রায় ২ লক্ষ টাকার ড্রেন এবং ৭ লক্ষ টাকার রাস্তা তৈরির কাজও শেষ করেছিলেন সমীরবাবু। সব মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা বকেয়া থাকায় পাওনাদারদের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন তিনি।
সমীরবাবুর স্বজনদের দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হলে বকেয়া টাকা আর কোনওদিন পাওয়া যাবে না— এই আতঙ্কও তাঁকে কুরে কুরে খাচ্ছিল। সেই দুশ্চিন্তা থেকেই গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তিনি বিষপান করেন। প্রথমে তাঁকে কাটোয়া হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে দু’দিন লড়াইয়ের পর শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় জেলা প্রশাসনের অন্দরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সাহা বলেন, “ব্লকের কোনও কাজ হলে সাধারণত টাকা বাকি থাকে না। কেন এমন ঘটল, তা অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।” অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার দাবি করেছেন যে জেলা পরিষদের কোনও টাকা বকেয়া নেই। বিডিও-র পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে সরকারি কাজের টাকা পেতে ঠিকাদারদের যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, এই ঘটনা তা ফের প্রকাশ্যে এনে দিল।