নিউজ ডেস্ক: চৈত্রের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করেই বঙ্গ রাজনীতির পারদ চড়াতে আজ ময়দানে নামছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লক্ষ্য— বিধানসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসকদলকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। তবে মোদী একাই নন, আজ রাতেই কলকাতায় পা রাখছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী তিন দিনে বাংলার জেলাগুলিতে কার্যত ঝটিকা সফর করবেন দিল্লির এই দুই শীর্ষ নেতা। প্রধানমন্ত্রীর তিন জনসভার পাশাপাশি শাহের রোড শো এবং জনসভা ঘিরে এখন সাজ সাজ রব গেরুয়া শিবিরে।
আজকের সূচিতে মোদী: হলদিয়া থেকে আসানসোল
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রচার শুরু হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া থেকে। এরপর তিনি সরাসরি চলে যাবেন পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে। দিনের শেষ জনসভাটি রয়েছে বীরভূমের সিউড়িতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কয়লা ও শিল্পাঞ্চল এবং মেদিনীপুরের মাটি— এই দুই জায়গাতেই বিজেপি নিজেদের সংগঠনকে আরও মজবুত করতে চাইছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই রাতে শহরে ঢুকছেন অমিত শাহ। শুক্রবার সকালে তিনি দলের নির্বাচনী ইস্তাহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশ করতে পারেন বলে জল্পনা তুঙ্গে, যদিও দলের তরফে এ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রাখা হয়েছে।
শাহের মেগা উইকেন্ড: রোড শো ও জনসভা
অমিত শাহের সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে মেদিনীপুর এবং জঙ্গলমহল। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় জনসভা সেরে খড়্গপুরে একটি বর্ণাঢ্য রোড শো করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর শনিবার বাঁকুড়ার ছাতনা এবং পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডিতে প্রচার চালাবেন তিনি। গত সপ্তাহে ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের সঙ্গী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ার কাছাকাছি রোড শো করেছিলেন শাহ। সেই উত্তেজনার রেশ বজায় রাখাই এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য।
‘জনতার চার্জশিট’ ও তৃণমূলকে তোপ
বিজেপি ইতিমধ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘জনতার চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে। গত রবিবার কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে মালদহ কাণ্ড, অনুপ্রবেশ এবং জনবিন্যাস নিয়ে কড়া আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পালটা জবাব দিতে ছাড়েননি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই চাপানউতোরের আবহে আজ মোদী তাঁর তিন সভা থেকে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নতুন কোনও বোমা ফাটান কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, শাহ আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ভোটের সময় ১৫ দিন তিনি বঙ্গেই ডেরা বাঁধবেন। ফলে দিল্লির দুই সেনাপতির এই ‘ডবল ইঞ্জিন’ প্রচার টলিউড থেকে টোল প্লাজা— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।