নিউজ ডেস্ক: বধূকে নৃশংসভাবে মারধর করে রাস্তার ধারে ফেলে রাখার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল ক্রান্তি ব্লকের চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব দোলাইগাঁও এলাকায়। শনিবার রাতের এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত শ্বশুর সামিউল হক এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর চারেক আগে গোলাবাড়ি এলাকার তাহেরা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মোতালেব হোসেনের। তাঁদের তিন বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের বছরখানেক পর থেকেই মোতালেব এক মহিলার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারে এই নিয়ে বিবাদ শুরু হলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাহেরার ওপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত বলে অভিযোগ।
শনিবার রাতে সেই বিবাদ চরমে পৌঁছালে মোতালেব, সামিউল ও তাঁর স্ত্রী মিলে তাহেরাকে বেধড়ক মারধর করেন। অভিযোগ, তাঁকে আধমরা অবস্থায় বাড়ির পাশে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে ক্রান্তি পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দিলে রাতেই অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তাহেরা খাতুন গুরুতর জখম অবস্থায় মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গৃহবধূর কাকা তজিবুল ইসলামের দাবি, “গত তিন বছর ধরে ভাইজির ওপর অত্যাচার চলছে। শ্বশুর প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হওয়ায় আগে প্রশাসনের কাছে জানিয়েও বিচার পাইনি। শনিবার রাতে ওঁকে প্রাণে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।” গ্রেফতার হওয়ার পর অভিযুক্ত মোতালেব অন্য এক যুবতীকে বিয়ে করার কথা স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সামিউল হকের দাবি, “গ্রামে অনেকেই দ্বিতীয় বিয়ে করেছে।” যদিও অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি। পুলিশ ধৃতদের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পাঠিয়েছে।