নিউজ ডেস্ক: স্বর্ণবন্ধকী সংস্থায় গচ্ছিত সোনা ছাড়িয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার এক অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অভিনব জালিয়াতির পর্দাফাঁস করল বাগুইআটি থানার পুলিশ। ১০৬.৬ গ্রাম সোনা মাত্র ৭ লক্ষ ২৪ হাজার টাকায় পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রাজারহাটের এক ব্যক্তিকে সর্বস্বান্ত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুখেন বর্মণ ও ভাস্কর মণ্ডল নামে দুই যুবককে। সোমবার অভিযোগ দায়ের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুঁদে পুলিশি তৎপরতায় ধরা পড়ে এই চক্রের দুই পাণ্ডা।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তরা প্রথমে রাজারহাটের ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায় যে, একটি নামী স্বর্ণবন্ধকী সংস্থায় তাদের বিপুল পরিমাণ সোনা গচ্ছিত আছে। কিন্তু ঋণ শোধ করতে না পারায় তারা সেই সোনা ছাড়াতে পারছে না। তারা প্রস্তাব দেয়, ওই ব্যক্তি যদি ৭ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা দিয়ে তাদের বকেয়া ঋণ মিটিয়ে দেন, তবে তাঁরা সেই ১০৬.৬ গ্রাম সোনা তাঁর হাতে তুলে দেবে।
যেভাবে বিছানো হয়েছিল জাল:
প্রতারণার ছকটি ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। যে কোনও স্বর্ণবন্ধকী সংস্থা সাধারণত সোনা পরীক্ষা করেই জমা রাখে, তাই ওই ব্যক্তির মনে কোনও সন্দেহই জাগেনি।
-
ব্যাংক লেনদেন: একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি ওই স্বর্ণবন্ধকী সংস্থায় ঋণের টাকা মেটানো হয়।
-
নকল সোনার কারসাজি: টাকা জমা দেওয়ার পর অভিযুক্তরা ওই ব্যক্তির হাতে সোনা তুলে দেয়। কিন্তু পরে সন্দেহ হওয়ায় অন্য জায়গায় সেই সোনা পরীক্ষা করাতেই ওই ব্যক্তির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। দেখা যায়, বহুমূল্য সোনার বদলে তাঁকে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে পিতল বা নকল ধাতুর তৈরি গয়না।
পুলিশের দ্রুত অভিযান ও গ্রেপ্তার:
সোমবার বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত ওই ব্যক্তি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে নামেন বাগুইআটি থানার আইসি-র নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল।
-
ধৃতদের পরিচয়: সুখেন বর্মণের আসল বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুরের হিলিতে হলেও বর্তমানে সে দমদমে থাকত। অন্য অভিযুক্ত ভাস্কর মণ্ডলের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝড়খালি কোস্টাল এলাকায়।
-
তদন্তের গতি: পুলিশ মনে করছে, এটি কোনও বড়সড় আন্তঃরাজ্য প্রতারণা চক্রের কাজ হতে পারে। স্বর্ণবন্ধকী সংস্থার আড়ালে কীভাবে এই নকল সোনার কারবার চলল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ধৃতদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের ডিজিটাল নথিপত্র এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং আগে কোথায় কোথায় তারা এ ধরণের জালিয়াতি করেছে, তার হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চলছে। সাধারণ মানুষকে অপরিচিত ব্যক্তির থেকে সোনা কেনার বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট।