বন্যপ্রাণ পাচার রুখতে এবং চোরাশিকারিদের নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দিতে এবার আরও পেশাদার হওয়ার পথে বন দপ্তর। গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং তার সঠিক বিশ্লেষণ সংক্রান্ত দক্ষতা বাড়াতে এবার পুলিশের কাছ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে চলেছেন বনকর্মীরা। মূলত উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ, বিশেষ করে গন্ডার সংরক্ষণের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই নজিরবিহীন যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার জলপাইগুড়ি পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে পুলিশ ও বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্তাদের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
বন দপ্তর সূত্রে খবর, গত চার বছরে উত্তরবঙ্গে চোরাশিকারিদের হাতে কোনও গন্ডারের মৃত্যু না হওয়া এক বড় সাফল্য। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সময় পাচারচক্র বা চোরাশিকারিরা যাতে নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ না পায়, সেই লক্ষ্যেই পুলিশের সঙ্গে যৌথ নজরদারির পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৈঠকে আইজিপি (উত্তরবঙ্গ) ছাড়াও জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের পুলিশ সুপার এবং বন দপ্তরের উত্তর মণ্ডলের মুখ্য বনপাল-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল (বন্যপ্রাণ) ভাস্কর জেভি জানান, পুলিশের সাহায্যে বনকর্মীদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়াও বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে নিয়মিত পুলিশ ও বন দপ্তরের যৌথ টহলদারি চলবে। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, “বন দপ্তরের প্রয়োজনে পুলিশ সর্বতোভাবে সহযোগিতা করবে। ইন্টেলিজেন্স শেয়ারিং এবং যৌথ টহলদারির মাধ্যমে বন্যপ্রাণীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।” প্রশাসনের এই পদক্ষেপ চোরাশিকারিদের রুখতে বড় হাতিয়ার হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।