নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিশ্বাসই কি তবে কাল হলো? পাঁচ বছরের ‘আস্থাভাজন’ ভাড়াটেকে ঘরের চাবি দিয়ে আত্মীয়র বাড়ি গিয়েছিলেন বীরভূমের মুরারইয়ের চাতরা গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল করিম। ফিরে এসে দেখলেন আলমারি ভাঙা, লুঠ হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকার সোনা ও নগদ টাকা। শেষমেশ পুলিশের ম্যারাথন তল্লাশিতে সেই চুরির কিনারা হলো ঠিকই, তবে উদ্ধার হওয়া সোনার হদিশ মিলল ভাড়াটেই বাথরুমের একটি রহস্যময় পুঁটলি থেকে। ততক্ষণে সপরিবারে চম্পট দিয়েছে ঝাড়খণ্ডের ওই ভাড়াটে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ জানুয়ারি। প্রজাতন্ত্র দিবসের বিকেলে এক আত্মীয়র মৃত্যুসংবাদ পেয়ে রেজাউল সপরিবারে বাইরে যান। ঘরে তালা দিয়ে চাবিটি রেখে যান বিশ্বাসভাজন ভাড়াটের কাছে, যে পেশায় একজন পরিযায়ী শ্রমিক। রাতে ফিরে রেজাউল দেখেন, দরজায় কোনো দাগ নেই, অথচ আলমারি সাফ। উধাও কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গয়না ও নগদ ৭০ হাজার টাকা। কোনোভাবে তালা না ভেঙে এই নিখুঁত অপারেশন দেখে পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে সেই ভাড়াটের ওপর।
তদন্তে নেমে বীরভূম জেলা পুলিশ রবিবার প্রথমবার তল্লাশি চালালেও কিছু মেলেনি। কিন্তু পুলিশের কড়া নজরদারিতে ঘাবড়ে গিয়ে ওই ভাড়াটে রাতারাতি সপরিবারে উধাও হয়ে যায়। এতেই পুলিশের সন্দেহ দৃঢ় হয়। সোমবার রাতে ফের তালা ভেঙে সেই ভাড়াটের ঘরে হানা দেয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর বাথরুমে রাখা একটি পুঁটলিতে মেলে খোয়া যাওয়া যাবতীয় গয়না ও নগদ টাকা।
এই ঘটনা খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ড পরবর্তী সময়ে বাড়িওয়ালাদের জন্য জারি করা ‘ভাড়াটে সচেতনতা’ বার্তার প্রয়োজনীয়তাকে ফের উসকে দিল। বাড়ির মালিক রেজাউল জানান, ঝাড়খণ্ডের ওই শ্রমিকের কোনো তথ্য যাচাই না করেই তিনি ঘর ভাড়া দিয়েছিলেন। জেলা পুলিশের তরফে ফের সাফ জানানো হয়েছে, সচিত্র পরিচয়পত্র ও বিশদ বিবরণ ছাড়া কাউকে ঘর ভাড়া দেওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।