নিউজ ডেস্ক: মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে দিনের পর দিন ‘লিংক নেই’ বা যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত। বারবার ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হওয়ায় শেষমেশ ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল এক মহিলার। কসবার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এক কর্মীকে মারধর করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন মৌসুমি দে নামে জনৈক গ্রাহক। সোমবারের এই ঘটনায় কসবা থানায় কর্তব্যরত অফিসারকে নিগ্রহের মামলা রুজু হয়েছে। মঙ্গলবার আলিপুর আদালত থেকে অবশ্য জামিন পেয়েছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, কসবার ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে মৌসুমী দেবীর মায়ের একটি পেনশন অ্যাকাউন্ট রয়েছে। প্রতি মাসেই নিয়ম করে মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে আসতেন মেয়ে মৌসুমি। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে তিনি ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ। বারবার ব্যাংকে এলেও কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘লিংক নেই’ অথবা সার্ভারের সমস্যার কথা বলে ফিরিয়ে দিচ্ছিল।
বচসা থেকে হাতাহাতি:
সোমবার ফের টাকা তুলতে ওই ব্যাংকে যান মৌসুমি দেবী। অভিযোগ, সেদিনও তাঁকে একই অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কেন দিনের পর দিন একজন পেনশনভোগীকে এভাবে ঘোরানো হচ্ছে, তা নিয়ে ব্যাংককর্মীদের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বচসা চলাকালীনই মেজাজ হারিয়ে এক ব্যাংককর্মীকে তিনি শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেন বলে অভিযোগ। ব্যাংকের তরফে খবর দেওয়া হলে কসবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৌসুমি দেবীকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতে সওয়াল-জবাব:
মঙ্গলবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তের আইনজীবী সৌরভ দাস সওয়াল করেন যে, তাঁর মক্কেলের কাউকে মারধর করার কোনও পূর্বপরিকল্পিত উদ্দেশ্য ছিল না। মাসের শেষে বৃদ্ধা মায়ের পেনশনের টাকা না পেয়ে চরম মানসিক উদ্বেগের বশেই তিনি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। অন্যদিকে, সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান সরকারি কর্মীকে মারধরের ঘটনার গুরুত্ব তুলে ধরে জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয়পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারক ব্যক্তিগত বন্ডে মৌসুমি দেবীর জামিন মঞ্জুর করেন। তবে এই ঘটনা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির পরিষেবা এবং গ্রাহকদের ধৈর্যের অভাব—উভয় দিক নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে পেনশনভোগীদের টাকা পেতে হয়রানি রুখতে ব্যাংকগুলির আরও সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।