নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগে এবার সরাসরি কোপ পড়ল পুলিশ আধিকারিকের ওপর। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে বাসন্তী থানার ইনস্পেক্টর-ইন-চার্জ (IC) অভিজিৎ পালকে শুক্রবার সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। এই প্রথম ইনস্পেক্টর পর্যায়ের কোনও আধিকারিককে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝে এমন শাস্তির মুখে পড়তে হল। গত বৃহস্পতিবার বাসন্তীতে তৃণমূল ও বিজেপির মিছিল চলাকালীন ভয়াবহ সংঘর্ষে এক সাব-ইনস্পেক্টর সহ আট পুলিশ কর্মী গুরুতর জখম হন।
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, দুটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও ওই এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে ব্যর্থ হয়েছেন আইসি। এই গাফিলতির কারণেই রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে এলাকা। সাসপেন্ড করার পাশাপাশি অভিজিৎ পালের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে কমিশন। তাঁর জায়গায় এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ইনস্পেক্টর প্রবীর ঘোষকে বাসন্তীর নতুন আইসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। ওই সংঘর্ষের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নদীয়ার রানাঘাট-১ নম্বর ব্লকের একটি ভোটকর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এক শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রাথমিক শিক্ষক সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকা নিয়ে আপত্তি জানানোয় তাঁকে নিগ্রহ করা হয়। অভিযোগের তির সরাসরি স্থানীয় বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যের দিকে। কমিশন এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং বিডিও-র কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব তলব করা হয়েছে।
ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে এদিন রাজ্যের সমস্ত এসডিপিও-দের (SDPO) জন্য ১৬ দফা জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্দেশিকার প্রধান লক্ষ্য হল বিগত নির্বাচনের হিংসাত্মক ঘটনাগুলোর ফয়সালা করা। কমিশন জানিয়েছে, পুরনো মামলার চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিয়ে তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে সমস্ত জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট (Warrant) কার্যকর করা এবং চিহ্নিত দাগী অপরাধী ও ‘হিস্ট্রি শিটার’দের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘লুকআউট নোটিস’ জারির ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে পুলিশকে।