নিউজ ডেস্ক: অফিস টাইমের চেনা ব্যস্ততা। সেক্টর ফাইভের দিকে যাওয়া ভিড় বাসে তিলধারণের জায়গা নেই। সেই সুযোগেই চলত কারসাজি। কখনও স্মার্টফোন, কখনও বা মানিব্যাগ— চোখের পলকে সাফ হয়ে যেত যাত্রীদের পকেট। সল্টলেক ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় জমা পড়া গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে বড় সাফল্য পেল পুলিশ। যাত্রী সেজে বাসে উঠে হাতে-নাতে এক আন্তঃরাজ্য পকেটমার চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করলেন গোয়েন্দারা।
ধৃতদের নাম সবুজ শেখ, আমিরুল লস্কর, বাবর আলি মণ্ডল, আহিদুল ইসলাম লস্কর, সালাউদ্দিন শেখ এবং রমজান শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। জেরায় তারা জানিয়েছে, মূলত সেক্টর ফাইভের অফিসযাত্রীরাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। ছ’জন মিলে বাসে উঠে যে ব্যক্তিকে টার্গেট করত, তাকে ঘিরে ধরে তৈরি করা হতো এক ‘কৃত্রিম ভিড়’। ধাক্কাধাক্কির সুযোগে অন্যমনস্ক যাত্রীর পকেট থেকে নিমেষেই উধাও হয়ে যেত মূল্যবান সামগ্রী। কখনও আবার বাসের পাদানিতে দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ওঠানামার সময় চলত হাতসাফাই।
সম্প্রতি এক যাত্রীর মোবাইল চুরির অভিযোগের ভিত্তিতে আটঘাঁট বেঁধে নামে পুলিশ। খাঁকি উর্দির বদলে সাধারণ পোশাকে বাসে ওঠেন পুলিশকর্মীরা। লিকলিকে হাতের কারসাজি শুরু হতেই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় পুরো চক্রটিকে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “পুজোর আগেও একটি চক্র ধরা পড়েছিল। পকেটমারদের এই নয়া কৌশল রুখতে সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।” এই চক্রের শিকড় আরও গভীরে কি না, তা জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে।