নিউজ ডেস্ক: ফের অনিশ্চয়তার মেঘ আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলার শুনানিতে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়াল। এর আগে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষও ব্যক্তিগত কারণে নিজেকে এই মামলা থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। পরপর তিন জন বিচারপতির সরে দাঁড়ানোর ঘটনায় আর জি কর মামলার ভবিষ্যৎ এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো আইনি মহলে।
কেন সরে দাঁড়ালেন দুই বিচারপতি? এদিন বিচারপতি দেবাংশু বসাকের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমান রোস্টার অনুযায়ী তাঁদের এই বেঞ্চ ফৌজদারি আপিল মামলা শোনার নিয়মিত বেঞ্চ নয়। বিচারপতি বসাক মন্তব্য করেন, “এই মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রতিদিন দীর্ঘ সময় দিয়ে এর শুনানি করা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান বিচার্য বিষয় (Determination) অনুযায়ী এই বেঞ্চের পক্ষে প্রতিদিন এই মামলা শুনে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়।” সময়ের অভাব এবং আইনি এক্তিয়ারের সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করেই তাঁরা মামলাটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধোঁয়াশায় মামলার ভবিষ্যৎ: ২০২৪ সালের অগস্ট মাসের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকেই সারা দেশ বিচারের অপেক্ষায়। নিম্ন আদালতে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। কিন্তু সিবিআই-এর তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে এবং বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের সন্ধানে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল নির্যাতিতার পরিবার। গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টও এই মামলার নজরদারির দায়িত্ব কলকাতা হাইকোর্টের ওপর ন্যস্ত করেছিল। কিন্তু বারবার বেঞ্চ বদল হওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন আইনজীবী ও আন্দোলনকারীরা।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? নিয়ম অনুযায়ী, এখন পুরো বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে পাঠানো হবে। তিনিই স্থির করবেন, কোন নতুন ডিভিশন বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি হবে। নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছেন। এখন তিলোত্তমার বিচারের ভার কোন বিচারপতির কাঁধে ওঠে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।