নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর শেষরক্ষা হল না। ‘বাংলাদেশি’ অনুপ্রবেশকারী হওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত ভারতের নির্বাচন কমিশনের কোপে পড়লেন পূর্ব বর্ধমানের দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেত্রী। শনিবার প্রকাশিত রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গিয়েছে, কালনা ব্লকের হাটকালনা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তি মণ্ডল এবং পূর্বস্থলী মেড়াতাল পঞ্চায়েতের প্রধান সন্তোষী দাসের নাম ভোটার তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় তাঁদের নামের পাশে স্পষ্টাক্ষরে ‘ডিলিটেড’ শব্দটি উল্লেখ করায় জেলা রাজনীতিতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল।
গত অক্টোবর মাসে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হতেই বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু এই দুই প্রধানের বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ জানিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, শ্রাবন্তি মণ্ডল এবং সন্তোষী দাস জালিয়াতির মাধ্যমে নথিপত্র সাজিয়ে ভারতীয় নাগরিক সেজেছিলেন। শুধু এই দুই প্রধানই নন, চূড়ান্ত তালিকায় নাম নেই কালনা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর অনিল বোসেরও। শনিবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারান হাটকালনা পঞ্চায়েতের প্রধান শ্রাবন্তি মণ্ডল। সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিজেপি এই ঘটনাকে ‘সত্যের জয়’ বলে অভিহিত করেছে। কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষের দাবি, মালদহের লাভলি খাতুনের মতোই এই দুই প্রধান যে বিদেশি নাগরিক, তা আজ প্রমাণিত। এবার তাঁদের জনপ্রতিনিধি পদ খারিজের দাবিতে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ হতে চলেছে গেরুয়া শিবির। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে আসন্ন নির্বাচনের আগে খোদ পঞ্চায়েত প্রধানদের নাগরিকত্ব হারানো কালনা ও পূর্বস্থলী এলাকায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।