নিউজ ডেস্ক: কালিয়াচক কাণ্ডে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী তথা মিম (MIM) নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামের বর্ণময় অপরাধের ইতিহাস এখন তদন্তকারীদের আতশকাঁচের তলায়। ইটাহারের বাসিন্দা এই দাপুটে আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেবল বর্তমান মামলা নয়, বরং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শ্লীলতাহানি, জালিয়াতি এবং সরকারি কর্মচারীদের মারধর করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পেশার আড়ালে শ্লীলতাহানির অভিযোগ:
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৩ সালে বালুরঘাট থানায় মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে এক তরুণী শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। উত্তর দিনাজপুরের এক বেসরকারি আইনি সচেতনতা সংস্থার পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করার সময় কুমারগঞ্জের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। অভিযোগ, পেশার সুযোগ নিয়ে তিনি ওই তরুণীর শ্লীলতাহানি করেন। এই ঘটনার জেরে দীর্ঘ আইনি টানাপড়েনের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে।
পুলিশ নিগ্রহ ও জেলবাস:
শ্লীলতাহানির ঘটনার সমান্তরালেই ২০১৩ সালের ১০ অক্টোবর অন্য এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এই আইনজীবী। দুর্গাপুজোর সময় ‘নো এন্ট্রি’ বিধি অগ্রাহ্য করে ইটাহার থেকে বালুরঘাটে ঢোকার চেষ্টায় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসা ও মারধরে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশকে মারধর এবং তরুণীর শ্লীলতাহানি— এই দুই জোড়া মামলায় প্রায় ৫৮ দিন জেল কাটার পর কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি।
হলফনামায় ‘পাপের’ খতিয়ান:
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্র থেকে মিম প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা পেশ করেছিলেন মোফাক্কেরুল, তাতেই তাঁর অপরাধের দীর্ঘ ফিরিস্তি স্পষ্ট হয়ে যায়। তাঁর বিরুদ্ধে বালুরঘাট, ইটাহার এবং রায়গঞ্জ থানায় জালিয়াতি, প্রতারণা, হুমকি ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এমনকি গত বছর বালুরঘাটগামী ট্রেনে এক তরুণীর অশালীন ভিডিও তোলার ঘটনায় অভিযুক্তের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ভাগলপুর থেকে আইন পাশ করা এই মিম নেতার আষ্টেপৃষ্ঠে যে বিতর্কের জাল বিছানো, কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্তে নেমে সেই সব পুরনো ফাইলই এখন নতুন করে খুলে দেখছেন গোয়েন্দারা।