নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট মেনে ছুটির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করল রাজ্য অর্থদপ্তর। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল— এই দুই দফায় রাজ্যের যে যে কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে, সেখানে এনআই অ্যাক্ট (NI Act) অনুযায়ী পাবলিক হলিডে বা সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার নবান্নের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
এই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দফায় যে সমস্ত এলাকায় ভোট পড়বে, সেখানে সমস্ত সরকারি অফিস, সরকার অধিগৃহীত সংস্থা, পঞ্চায়েত ও পুরসভার মতো স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা এবং সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। তবে বেসরকারি শিল্প সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, দোকান-বাজার এবং চা বাগানগুলির জন্য শ্রমদপ্তর (Labour Department) আলাদাভাবে ছুটির বিজ্ঞপ্তি জারি করবে।
ছুটির নির্দেশিকায় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি রয়েছে:
-
ভোটের আগের দিন: যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ভবন ভোটগ্রহণ কেন্দ্র (Polling Station) হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেখানে ভোটের আগের দিন থেকেই ছুটি থাকবে।
-
অন্য এলাকার ভোটার: যদি কোনও কর্মী এমন এলাকায় কাজ করেন যেখানে ওই দিন ভোট নেই, কিন্তু তাঁর নিজের বাড়ির এলাকায় ভোট রয়েছে, তবে তিনি ভোট দেওয়ার জন্য বিশেষ ছুটি পাবেন।
-
পুনর্নির্বাচন: কোনও বুথে যদি গোলমালের কারণে বা অন্য কোনও কারণে কমিশন পুনরায় ভোটগ্রহণের (Repoll) নির্দেশ দেয়, তবে সেই নির্দিষ্ট দিনেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ ছুটি মিলবে।
-
ভোটকর্মীদের জন্য স্বস্তি: যে সমস্ত সরকারি কর্মী বা শিক্ষক ভোটের ডিউটি করবেন, কাজ শেষে তাঁদের বাড়ি ফিরতে যদি রাত হয়ে যায়, তবে তাঁরা ভোটের পরের দিন ‘স্পেশাল লিভ’ বা বিশেষ ছুটি ভোগ করতে পারবেন।
অর্থদপ্তরের এই বিজ্ঞপ্তির ফলে কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হল। বিশেষ করে ভোটের ডিউটি সেরে পরের দিন কাজে যোগ দেওয়ার ক্লান্তি থেকে এবার রেহাই পাবেন ভোটকর্মীরা। প্রশাসনের লক্ষ্য, এই ছুটির মাধ্যমে প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে এবং উৎসবের মেজাজে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।