নিউজ ডেস্ক: তিন বছর আগের সেই অভিশপ্ত রাত। উস্তির হটুগঞ্জ বাজারে নিজের মুদি দোকানে বসেছিলেন নিখিলকুমার সাহা। সামনে যমদূতের মতো এসে দাঁড়িয়েছিল এলাকার কুখ্যাত তোলাবাজ রেজাজুল লস্কর ওরফে ‘ছোট মাতাল’। দাবি ছিল মোটা অঙ্কের তোলা। কিন্তু মাথা নোয়াননি নিখিলবাবু। বুক চিতিয়ে বলেছিলেন, ‘তোলা দেব না’। সেই সাহসের ‘শাস্তি’ হিসেবে নিখিলবাবুর বুক লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় রেজাজুল। সেই বুলেট আজও তাঁর মেরুদণ্ডের দ্বিতীয় ভার্টিব্রায় আটকে রয়েছে। শরীরের সেই মারণ ক্ষত নিয়েই বুধবার ডায়মন্ড হারবার আদালতে হাজির হয়েছিলেন নিখিলবাবু। আর সেখানেই রচিত হলো ইতিহাস। তোলাবাজ রেজাজুলকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল আদালত।

ডায়মন্ড হারবার আদালতের ইতিহাসে খুনের চেষ্টার মামলায় এমন কঠোর সাজা কার্যত প্রথম। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ৫ মার্চ রাত সোয়া আটটা নাগাদ এই রোমহর্ষক কাণ্ডটি ঘটেছিল। প্রথম গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও দ্বিতীয়টি নিখিলবাবুর বুক ফুটো করে মেরুদণ্ডে গিয়ে বিঁধে যায়। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ২৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ফিরে এলেও চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, বুলেটটি বের করতে গেলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আজীবন ওই বুলেট শরীরেই বয়ে বেড়াতে হবে তাঁকে।

এই মামলার সরকারি পক্ষের বিশেষ আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, “রেজাজুল শুধু নিখিলবাবুকে খুনের চেষ্টাই করেনি, যাওয়ার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে বোমাও ছুড়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজে গুলি চালানোর স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছিল। আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছিলাম, কারণ এই অপরাধ নিখিলবাবুকে কার্যত অর্ধমৃত করে দিয়েছে।”

এদিন সাজা ঘোষণার পর আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে নিখিলবাবুর মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। শরীরে বিঁধে থাকা বুলেটটি হয়তো আর কোনওদিন বের হবে না, কিন্তু যে তোলাবাজের অত্যাচারে তাঁর জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছিল, তাকে আজীবন শ্রীঘরের অন্তরালে পাঠিয়ে নৈতিক জয় পেলেন উস্তির এই লড়াকু ব্যবসায়ী। এই রায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার অপরাধী মহলে এক কড়া বার্তা দিল বলেই মনে করছে আইনি মহল।

Share on Social Media