নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়ে এমনিতেই উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া। আম জনতা থেকে শুরু করে বিরোধী-শাসক— সব পক্ষই বিভিন্ন সময়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই আবহে নতুন করে জল্পনা উসকে দিল একটি ‘গোপন’ নথি। যা সত্যি হলে, এবার ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাই করার দায়িত্ব থাকতে পারে সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে।
বিএসএফ-এর হাতে শনাক্তকরণের ভার?
সাধারণত পোলিং বুথে ভোটারদের পরিচয়পত্র বা ভোটার স্লিপ পরীক্ষা করার দায়িত্ব থাকে পোলিং অফিসারদের ওপর। কিন্তু সামনে আসা ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রতিটি পোলিং বুথে ভোটার শনাক্তকরণের জন্য বিএসএফ-এর (BSF) একজন পুরুষ ও একজন মহিলা জওয়ানকে মোতায়েন করার পরিকল্পনা করছে কমিশন। বিষয়টি জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এই ধরণের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী।
সিসিটিভি নজরদারিতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী:
ওই নথিতে আরও কিছু চাঞ্চল্যকর নির্দেশিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
-
ফুটেজ মনিটরিং: পোলিং বুথের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য দু’জন বিএসএফ জওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
-
আধিকারিকদের বদল: গত লোকসভা নির্বাচনে যে সমস্ত ইন্সপেক্টর বা তার উঁচু পদের পুলিশ আধিকারিকরা নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের কাউকেই এবারের ভোট প্রক্রিয়ায় রাখা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভোটকেন্দ্রে পোলিং অফিসারদের ভূমিকা কার্যত গৌণ হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কমিশনের এই নয়া চাল আসলে অবাধ ভোট নিশ্চিত করার প্রয়াস, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই নথির সত্যতা নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ভোটের মুখে এই ‘গোপন’ পরিকল্পনা ঘিরে যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হল, তা বলাই বাহুল্য।