নিউজ ডেস্ক: রূপকথার গল্প নয়, বাস্তবেই এক শিশুর প্রাণ বাঁচাতে নিজের জীবন বাজি রাখল এক পালিত কুকুর। বুনো শুয়োরের প্রাণঘাতী হামলা থেকে ছয় বছরের পবিত্রকে বাঁচাতে গিয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গিয়েছিল তার, তবুও পিছু হটেনি সে। আলিপুরদুয়ারের পূর্ব মাদারিহাটের এই ঘটনার পর এখন ‘ভুলি’ নামের ওই কুকুরটিই গোটা এলাকার নয়নের মণি।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার রাতে, যখন জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বিরহিণী দাসের বাড়ির বারান্দায় দুটি বুনো শুয়োর শাবক প্রসব করে আশ্রয় নেয়। রবিবার সকালে আচমকাই একটি মা শুয়োর বিরহিণীর প্রতিবেশী ঝুমা মণ্ডলের ছয় বছরের ছেলে পবিত্রর ওপর চড়াও হয়। শিশুটি যখন নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে, তখনই দেবদূতের মতো হাজির হয় রমেন দাসের পালিত কুকুর ‘ভুলি’। শুরু হয় বুনো শুয়োর ও কুকুরের রক্তক্ষয়ী লড়াই। শুয়োরের দাঁতের আঘাতে ভুলির পেট ফেটে নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে এলেও সে লড়ে যায় যতক্ষণ না শিশুটি নিরাপদ দূরত্বে সরে যায়। বর্তমানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভুলি সুস্থ আছে এবং তাকে দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
অন্যদিকে, লোকালয়ে বুনো শুয়োরের এই হানাদারি রুখতে হিমশিম খেতে হয় বনকর্মীদের। শাবক থাকায় ঘুমপাড়ানি গুলি ব্যবহার না করে শব্দবাজি ফাটিয়ে মা শুয়োর ও তার ছানাদের জয়শ্রী চা বাগানের দিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। মাদারিহাটের রেঞ্জ অফিসার শুভাশিস রায় জানান, লোকালয়ে বুনো শুয়োর শাবক প্রসব করার ঘটনা এই প্রথম। বর্তমানে ওই শুয়োরগুলি চা বাগানের নালায় আশ্রয় নিলেও শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি। তবে বনদপ্তরের নজরদারি জারি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।