নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনায় ধৃত ৩১ জন অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল আদালত। সোমবার কলকাতার নগর দায়রা আদালতের (বিচারের ভবন) এনআইএ-র (NIA) বিশেষ আদালতের বিচারক শ্রুতিরূপা ঘোষ মাজি ধৃতদের ফের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে ইউএপিএ (UAPA) আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় এই মুহূর্তে তাঁদের মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এদিন আদালতে এনআইএ-র সরকারি কৌঁসুলি শ্যামল ঘোষ জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কোনও বড়সড় ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তিনি আদালতকে বলেন, “তদন্ত এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। এই অবস্থায় অভিযুক্তরা জামিন পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করার বা তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার আশঙ্কা প্রবল।”
তদন্তের বর্তমান গতিপ্রকৃতি ও মোবাইল ফরেনসিক:
এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কিছু মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই ফোনগুলিতে থাকা চ্যাট, কল রেকর্ড এবং ভিডিও পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলেই হিংসার ছক এবং কারা এর মূল পাণ্ডা ছিল, তা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেলদের বিরুদ্ধে অহেতুক কঠোর ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে। তিনি সওয়াল করেন যে, ধৃতরা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে রাজি, তাই তাঁদের জামিন দেওয়া হোক। কিন্তু কেস ডায়েরির তথ্যপ্রমাণ ও এনআইএ-র জোরালো যুক্তির সামনে সেই দাবি ধোপে টেকেনি।
বেলডাঙার ঘটনায় এনআইএ তদন্তভার নেওয়ার পর থেকেই একে একে প্রভাবশালী যোগসূত্রগুলি খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে। আগামী ১৪ দিন জেল হেফাজতে থাকাকালীন তাঁদের আরও কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। আদালতের এই নির্দেশের পর বেলডাঙা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ।