নিউজ ডেস্ক: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা হিংসা মামলায় নয়া মোড়। এবার থেকে জেল থেকে ভার্চুয়ালের বদলে সশরীরে আদালতে হাজিরা দেবেন অভিযুক্তরা। শুক্রবার কলকাতার এনআইএ (NIA) বিশেষ আদালতের বিচারক সুকুমার রায় এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে মামলার ৩১ জন অভিযুক্তকেই আগামী ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
এদিন কলকাতার বিচারভবনে মামলাটি উঠলে ধৃতদের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান। তিনি যুক্তি দেন যে, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে আদালতের দূরত্ব অত্যন্ত কম। তা সত্ত্বেও কেন অভিযুক্তদের কেবল ভার্চুয়াল মাধ্যমে পেশ করা হচ্ছে? আইনজীবীর দাবি, ভার্চুয়াল শুনানিতে মাঝেমধ্যেই যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দেয়, যার ফলে অভিযুক্তরা নিজেদের বক্তব্য বিচারকের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেন না। এতে মামলার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। এই যুক্তি শোনার পর বিচারক জেল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করেন।
এনআইএ-র বিশেষ কৌঁসুলি শ্যামল ঘোষ আদালতকে জানান যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই মামলার কেস ডায়েরি হাতে পেয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে গোয়েন্দারা জেলেই অভিযুক্তদের জেরা করবেন। অন্যদিকে, এদিনের শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনও জামিনের আবেদন জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি ভিন রাজ্যে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বেলডাঙায়। সেই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর এনআইএ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ (UAPA)-র মতো কড়া ধারায় মামলা রুজু করে। যদিও এই ধারা প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলছেন অভিযুক্তদের আইনজীবীরা। আপাতত জেলের অন্দরেই থাকতে হচ্ছে বেলডাঙা কাণ্ডে জড়িত এই ৩১ জনকে।