নিউজ ডেস্ক: স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা পৌঁছে গেলেও দেখা নেই শিক্ষকদের। ঘড়ির কাঁটা বেলা ১১টা পার করার পরও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন অভিভাবকরা। সোমবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ব্লকের দক্ষিণ সোহারই অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান গ্রামবাসীরা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। খবর পেতেই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে স্কুলের ৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকেই একলপ্তে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়গঞ্জ সদর লাগোয়া এই স্কুলে দীর্ঘদিন ধরেই পঠনপাঠন শিকেয় উঠেছে বলে অভিযোগ। ১১২ জন পড়ুয়ার এই স্কুলে সাত জন শিক্ষক-শিক্ষিকা থাকলেও তাঁদের নিয়মিত দেখা মেলাই ভার। সোমবার বেলা গড়িয়ে গেলেও কেউ না আসায় অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেন। দেরিতে আসা শিক্ষকরা এসে দেখেন গেটে তালা। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গেই তাঁদের দীর্ঘক্ষণ বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য তুলসী মার্ডির মধ্যস্থতায় বেশ কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং তালা খোলা হয়।
ঘটনার খবর পৌঁছতেই কড়া পদক্ষেপ করেন উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান মহম্মদ নাজিমুদ্দিন আলি। তাঁর নির্দেশে রায়গঞ্জ দক্ষিণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সাব্বির আহমেদ তদন্তে নামেন। অভিযোগের সত্যতা মিলতেই সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকে শোকজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চেয়ারম্যান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এভাবে স্কুল চলতে পারে না। অভিভাবকদের অভিযোগ পাওয়ার পরেই চক্র পরিদর্শককে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
পড়ুয়াদের অভিযোগ, পড়াশোনার পাশাপাশি মিড-ডে মিলের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের। যদিও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক হিমাংশু দাসের দাবি, বিএলও (BLO) ডিউটি এবং ছুটির কারণে অনেকে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষা সংসদ। এলাকার অভিভাবক রবি মার্ডি ও গীতা দাসের অভিযোগ, শিক্ষকদের এই অনিয়মের ফলে ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের। জেলা শিক্ষা সংসদের এই কড়া পদক্ষেপে আপাতত কিছুটা আশার আলো দেখছেন গ্রামবাসীরা।