নিউজ ডেস্ক: চলন্ত বাইকের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে বারবার রাস্তায় আছড়ে পড়ছে কুকুরটি। গলার দড়ি ধরে তাকে হ্যাঁচকা টানে হিঁচড়ে নিয়ে চলেছেন বাইক আরোহী এক দম্পতি। রবিবার সমাজমাধ্যমে এমনই এক অমানবিক ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উপর এই নৃশংস পশু নির্যাতনের ঘটনাটি নজরে আসতেই তদন্তে নেমেছে বারাকপুর কমিশনারেট।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ভর সন্ধ্যায় ব্যস্ত রাস্তার মাঝখান দিয়ে একটি কুকুরকে বাইকের সঙ্গে বেঁধে দৌড় করানো হচ্ছে। বাইকের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা অবলা প্রাণীটির। মাঝেমধ্যেই সে রাস্তায় উলটে পড়ছে, কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই আরোহীদের। এই দৃশ্য দেখে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পশুপ্রেমীরা। কয়েক কিলোমিটার পথ ধরে এমন কাণ্ড চললেও কেন তা পুলিশের নজরে পড়ল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
বারাকপুর কমিশনারেটের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, “কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের ঠিক কোন এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে, তা ভিডিয়ো দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পশু নির্যাতনের ধারায় মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে, এদিনই পথ সচেতনতায় এক অভিনব উদ্যোগ নিতে দেখা গেল বারাকপুর ট্রাফিক গার্ডকে। সাধারণ মানুষকে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে বারাকপুরের ওয়্যারলেস মোড়ে রাস্তায় নামানো হয় ‘যমরাজ’ ও ‘চিত্রগুপ্ত’কে। ট্রাফিক পুলিশেরই দুই কর্মী পুরাণের ওই চরিত্রের সাজে পথচারীদের হেলমেট পরা ও সিগন্যাল মেনে চলার পরামর্শ দেন। একদিকে যখন পশু নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক তখনই পুলিশের এই সচেতনতা অভিযান ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল লক্ষ করা গিয়েছে।