নিউজ ডেস্ক: ক্যালেন্ডারে এখন সবে মার্চের শেষ, কিন্তু জুলাই থেকে নভেম্বরের সেই ‘বিপজ্জনক’ সময় আসার আগেই ডেঙ্গি মোকাবিলায় কোমর বেঁধে নামছে বিধাননগর পুরনিগম। গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সল্টলেক ও সংলগ্ন এলাকায় মশার বংশবৃদ্ধি রুখতে এখন থেকেই কড়া ‘ব্লু-প্রিন্ট’ তৈরি করছেন পুর-কর্তৃপক্ষ। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত বছর প্রথম দু’মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ থাকলেও, ২০২৬-এর ২৪ মার্চ পর্যন্ত সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪-এ। তবে এই সামান্য স্বস্তিতে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই বলে মনে করছে পুরনিগমের স্বাস্থ্য বিভাগ।
পুরনিগম সূত্রের খবর, সল্টলেকের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টি ওয়ার্ডকে ইতিমধ্যেই ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় গতবার আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়েছিল, সেগুলিকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে তৈরি করা হচ্ছে ‘মাইক্রো-প্ল্যান’। এই পরিকল্পনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো— প্রতিটি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক অবস্থান ও জমা জলের সমস্যার চরিত্র বুঝে আলাদা আলাদা রণকৌশল তৈরি করা। বিশেষ করে সল্টলেকের এফই, বিডি, এফডি, একে, ইই ব্লক এবং করুণাময়ী ও বৈশাখী আবাসন এলাকাগুলির জন্য তৈরি হচ্ছে বিশেষ নজরদারি মানচিত্র।
শহরের পরিত্যক্ত বাড়ি, তালাবন্ধ আবাসন এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি অফিস চত্বরগুলিতে মশার উৎস খুঁজতে এবার অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরনিগম। বহুতলের ছাদ বা পাঁচিলঘেরা দুর্ভেদ্য জমিতে জল জমে আছে কি না, তা ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়বে। পতঙ্গবিদ দেবাশিস বিশ্বাসের মতে, বর্তমানে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় এটি এডিস মশার ডিম পাড়ার আদর্শ সময়। পুর-কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বার্তা, শুধু সরকারি নজরদারি নয়, নাগরিকদেরও সজাগ হতে হবে। বাড়ির টব বা আশেপাশে যাতে এক ফোঁটাও জল না জমে, তা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।