নিউজ ডেস্ক: সবুজ রঙের এক টুকরো হাসপাতালে চাদরে মোড়া ছিল দুধের শিশুটি। আর সেই চাদর দেখেই সন্দেহ জেগেছিল হাওড়া স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে কর্তব্যরত আরপিএফ আধিকারিকদের। জেরা করতেই বেরিয়ে এল হাড়হিম করা তথ্য। নিজের অন্ধ ভাইয়ের তিন মাসের শিশুকন্যাকে চুরি করে নিঃসন্তান এক দম্পতির কাছে মোটা টাকায় বিক্রি করতে যাচ্ছিল পিসি। পাচারের এই অভিনব ছক বানচাল করে অভিযুক্ত জুবেইদাকে গ্রেপ্তার করল হাওড়া জিআরপি। উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে পাঠানো হয়েছে সরকারি হোমে।
হাওড়া স্টেশন দিয়ে নারী ও শিশু পাচার রোধে আরপিএফের বিশেষ দল ‘নজর’ রাখছিল। তল্লাশি চালানোর সময় অফিসার স্বপন মণ্ডলের নজরে আসে ওই মহিলা। তাঁর কোলের শিশুটির গায়ে বিহারের সরকারি হাসপাতালের ছাপ মারা সবুজ চাদর দেখে আধিকারিকদের সন্দেহ হয়— শিশুটি হাসপাতাল থেকে চুরি করা নয় তো? জেরা শুরু করতেই জুবেইদা একটি জন্মের শংসাপত্র (Birth Certificate) পেশ করে দাবি করে, সে-ই শিশুটির মা। কিন্তু কাগজটি খুঁটিয়ে দেখতেই দেখা যায় সেটি জাল।
জেরায় জুবেইদা কবুল করেছে, তার বাপের বাড়ি বিহারে। তার ভাই ও ভ্রাতৃবধূ দুজনেই দৃষ্টিহীন। এর আগে তাঁদের তিনটি সন্তান জন্মের পরই মারা গিয়েছিল। সম্প্রতি এই শিশুকন্যাটির জন্ম হয় এবং তার কয়েকদিনের মধ্যেই জুবেইদার ভাইয়ের মৃত্যু হয়। ভাই মারা যেতেই অন্ধ ভ্রাতৃবধূর অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তিন মাসের শিশুকে চুরি করে ভদ্রেশ্বরে চলে আসে সে। বিহারের একটি পঞ্চায়েত অফিসের কর্মীকে হাত করে জালিয়াতির মাধ্যমে বার্থ সার্টিফিকেটে নিজের নাম ‘মা’ হিসেবে নথিভুক্ত করায় জুবেইদা। পাচারের পথে পুলিশ বা অন্য কেউ সন্দেহ করলে এই নথিটিকেই সে ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, নিঃসন্তান এক দম্পতির সঙ্গে কয়েক লক্ষ টাকায় শিশুটিকে বিক্রির রফা হয়েছিল। হাওড়া স্টেশনে নেমে তাঁদের হাতেই শিশুটিকে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। পুলিশ বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা ওই পঞ্চায়েত অফিসের কাছে তথ্য তলব করেছে। ধৃত জুবেইদা কোনও বড় শিশু পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্যা কি না, এবং এর আগে সে এইভাবে আর কত শিশুকে বিক্রি করেছে— তা জানতে ম্যারাথন জেরা চালাচ্ছে হাওড়া জিআরপি।-ছবি প্রতীকী