নিউজ ডেস্ক: একটি মাত্র ভাইরাল ভিডিও-র অভিঘাতে কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)। একদিকে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মিম (AIMIM) জোট ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছে, অন্যদিকে খোদ দলের সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন খোবায়েব আমিন। এমনকি হুমায়ুন কবীর গঠিত বাবরি মসজিদ নির্মাণ বিষয়ক ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষের পদ ছেড়েছেন মইনুল হকও। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভিডিও-কাণ্ডের জেরে ‘মুসলিমদের মসিহা’ সাজার চেষ্টা করতে গিয়ে এখন কার্যত একা হয়ে পড়েছেন হুমায়ুন।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিকে হুমায়ুন কবীর ‘এআই’ (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারসাজি বলে দাবি করলেও, সেই তত্ত্বে চিঁড়ে ভিজছে না। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করে বলেন, “হুমায়ুন কবীর এবং বিজেপি নেতারা— উভয়েই ভিডিওর সত্যতা ঢাকতে এআই-এর দোহাই দিচ্ছেন। লক্ষ্য করার মতো বিষয় হল, দুই পক্ষের সুর একদম এক। আসলে ঠাকুর ঘরে কে, আমি তো কলা খাইনি!” সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতেও, ১৯ মিনিটের দীর্ঘ ভিডিও নিখুঁতভাবে এআই দিয়ে তৈরি করা কার্যত অসম্ভব। বিশেষ করে ওই ভিডিওতে যে ধরণের কথ্য ভাষার ভুল রয়েছে, তা এআই প্রযুক্তিতে ফুটিয়ে তোলা কঠিন।
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার আবেগ উস্কে মুসলিম ভোট এককাট্টা করার যে কৌশল হুমায়ুন নিয়েছিলেন, তৃণমূলের প্রকাশ করা ভিডিওতে তার ‘আসল উদ্দেশ্য’ ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ। এর পরেই আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দলের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, মুসলিমদের আত্মসম্মান ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনও বিবৃতির সঙ্গে মিম কোনও সম্পর্ক রাখবে না। বাংলায় মিম এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হুমায়ুনের দল বড়সড় ধাক্কা খেল। দলের অন্দরের খবর, আগামী দু-এক দিনের মধ্যে অনেক প্রার্থীও ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।
এদিকে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ট্রাস্ট থেকেও ইস্তফা দিয়ে কোষাধ্যক্ষ মইনুল হক অভিযোগ করেছেন, ট্রাস্টের বিপুল পরিমাণ অনুদান ও কাজের বিষয়ে তাঁকে পুরোপুরি অন্ধকারে রাখা হত। সব মিলিয়ে একদিকে আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এবং অন্যদিকে ভিডিও বিতর্কে ভাবমূর্তি নষ্ট— এই জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়ে এখন গভীর রাজনৈতিক সংকটে হুমায়ুন কবীর। যদিও তাঁর দাবি, তিনি কারও উপর নির্ভর করে রাজনৈতিক দল তৈরি করেননি এবং তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।