নিউজ ডেস্ক: ভোটের দামামা বাজতেই ফের তপ্ত দক্ষিণ ২৪ পরগনা। ভাঙড়ে এক রহস্যময় বোমা বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই, সেখান থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মিনাখাঁয় উদ্ধার হল এক তৃণমূল কর্মীর ক্ষতবিক্ষত ও ঝলসানো দেহ। বৃহস্পতিবার সকালে মিনাখাঁ বিধানসভা কেন্দ্রের ঝুজুরগাছা এলাকা থেকে মসিউর কাজি নামে ওই শাসকদলের বুথ সভাপতির অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে এলাকা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় তাঁর দেহ ঝলসে গিয়েছে, নাকি চক্রান্ত করে খুন— তা নিয়ে দানা বেঁধেছে চরম রহস্য। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া এলাকার দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রামে একটি পাকা বাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, ওই ঘরে দেগঙ্গা থেকে লোক এনে বোমা বাঁধার কাজ চলছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, বাড়ির পাঁচিল ভেঙে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। অভিযোগ, বিস্ফোরণের পর তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে আহত ও নিহতদের গাড়ি করে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝরাস্তায় একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন গ্রামবাসীরা। যদিও পুলিশের বক্তব্য, ঘটনাস্থল থেকে কোনও দেহাংশ বা মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। ফরেন্সিক টিমকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, সেখানে রক্তের দাগ মিলেছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হবে।

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই মিনাখাঁয় তৃণমূল নেতা মসিউর কাজির ঝলসানো দেহ উদ্ধার হওয়ায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। মসিউরের হাত উড়ে গিয়েছে এবং গোটা শরীরে আগুনের ছোঁয়া স্পষ্ট। ভাঙড়ের বিস্ফোরণস্থল থেকে মিনাখাঁয় দেহ উদ্ধারের স্থানের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। এই দূরত্বই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। প্রশ্ন উঠছে, ভাঙড়ে বিস্ফোরণ হলে মসিউরের দেহ মিনাখাঁয় পৌঁছাল কীভাবে? নাকি ভাঙড়ে আহত হওয়ার পর তাঁকে ওখানে ফেলে আসা হয়েছে? পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। ভাঙড়ের ঘটনাস্থলে মেলা রক্তের নমুনা মসিউরের কি না, তা জানতে পরিবারের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হবে।

মসিউরের পরিবারের দাবি, বুধবার রাত ৯টা নাগাদ একটি ফোন পেয়ে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। সারারাত না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয় এবং ভোরে ঝুজুরগাছা এলাকা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ মেলে। পরিবারের অভিযোগ, চক্রান্ত করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। ভোটের মুখে ভাঙড় ও মিনাখাঁ জুড়ে এই জোড়া রহস্য এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা এবং পুলিশের গোয়েন্দা ব্যর্থতাই এই ঘটনার মূল কারণ।

Share on Social Media