নিউজ ডেস্ক: মূক-বধির তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আইনি লড়াই চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আদালতে ধোপে টিকল না সেই অভিযোগ। উল্টে বিচার প্রক্রিয়ায় উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— ঘর ছাড়া করার জেদ আর বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়া বিবাদের জেরেই সাজানো হয়েছিল এই ধর্ষণের মামলা। মঙ্গলবার কলকাতার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক (ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট) কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় তথ্য-প্রমাণের অভাবে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালাকে বেকসুর খালাস করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে গিরিশ পার্ক থানা এলাকার বাসিন্দা এক মূক-বধির তরুণীর পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণ করেছেন বাড়িওয়ালা। ভাড়াটিয়া ওই তরুণী আকার-ইঙ্গিতে বাড়ির লোকজনকে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করে তদন্তে নামে। ব্যাঙ্কশাল আদালতে চার্জশিট পেশ হওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য আসে কলকাতার বিচারভবনে।
দীর্ঘ শুনানির পর বিচারক লক্ষ্য করেন, মেডিকেল রিপোর্ট এবং সাক্ষীদের বয়ানে পাহাড়প্রমাণ অসঙ্গতি রয়েছে। জেরায় উঠে আসে যে, ওই বাড়িওয়ালার সঙ্গে ভাড়াটিয়া পরিবারের দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল এবং বাড়ি খালি করা নিয়ে চাপানউতোর ছিল। সব দিক খতিয়ে দেখে এদিন আদালত মন্তব্য করে, সরকার পক্ষের আনা অভিযোগের কোনও সত্যতা মেলেনি। উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবেই অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া হল।
আদালতের রায়ের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ওই ব্যক্তি বলেন, “পাঁচ বছর পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেলাম। কিন্তু এই কয়েক বছরে আমার যে সামাজিক সম্মান নষ্ট হয়েছে, তা কি কোনওভাবে ফিরে পাওয়া সম্ভব?” সরকার পক্ষের আইনজীবীও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, অভিযোগকারী পক্ষের বয়ানে যথেষ্ট গরমিল ছিল। এই রায় ঘিরে আদালত চত্বরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।