নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই বড়সড় বিড়ম্বনার মুখে প্রশাসন। সাধারণ মানুষ তো বটেই, এবার খোদ ব্লকের শীর্ষ আধিকারিকের নামই বাদ পড়ল ভোটার তালিকা থেকে। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডুর নাম চূড়ান্ত তালিকায় না থাকায় জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আলিপুরদুয়ার পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় এইআরও (AERO) হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তাঁর নাম বাদ গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ময়নাগুড়িতে গত দু’বছর ধরে বিডিও পদে কর্মরত প্রসেনজিৎ কুণ্ডু নিজে এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। স্বাভাবিকভাবেই নিজের নাম বাদ পড়ায় তিনি নিজেও বিস্মিত, যদিও এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। আলিপুরদুয়ারের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থপ্রতিম ঘোষ এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, “নির্বাচন কমিশনের তাড়াহুড়ো করে কাজ করার ফলেই এই বিপুল অসঙ্গতি। খোদ বিডিও-র সঙ্গেই যদি এমনটা হয়, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।”
শনিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের বর্তমান মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। তবে এই তালিকার মধ্যেও প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ বা ‘বিচারাধীন’ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত মোট বাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২। বিচারকদের পর্যবেক্ষণে থাকা নামগুলি থেকে ভবিষ্যতে আরও নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, তেমনই নতুন ভোটারদের নামও যুক্ত হতে পারে। তবে প্রশাসনিক পদাধিকারীর নামই তালিকা থেকে উধাও হওয়ার ঘটনায় কমিশনের কর্মপদ্ধতি নিয়ে বড়সড় সংশয় তৈরি হয়েছে।