নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই মালদহ জেলা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৮ হাজার ২৮২ জন ভোটারের নাম তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাদ পড়েছে। তবে এর থেকেও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, মালদহের প্রায় ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ৮০ জন ভোটারের ভবিষ্যৎ এখন ‘বিচারবিভাগীয় তথ্য যাচাই’ বা স্ক্রুটিনির ওপর ঝুলে রয়েছে। অর্থাৎ, এঁদের নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন।
শনিবার সকাল থেকেই ভোটার তালিকা দেখা নিয়ে জেলাবাসীর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা লক্ষ করা যায়। যদিও কমিশনের ওয়েবসাইট বিভ্রাটের কারণে দীর্ঘক্ষণ সাধারণ মানুষ জানতে পারেননি তাঁদের নাম তালিকায় আছে কি না। বিকেলে জেলা প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বর্তমানে জেলায় মোট ভোটার ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার ২০৩ জন। তথ্য অনুযায়ী, গাজোলে ৫২৬৩ জন, হবিবপুরে ৪০৪৯ জন, পুরাতন মালদহে ৪০৫৩ জন এবং ইংরেজবাজারে ১৪১৫ জনের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং ‘বিচারাধীন’ থাকা নিয়ে জেলায় তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্বের সরাসরি অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশাখান চৌধুরী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “৮ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।” অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস একে ‘বিজেপির চক্রান্ত’ বলে ব্যাখ্যা করলেও বিচারবিভাগীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে মালদহের এক বিশাল অংশের মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে সংশয় জেলা রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের জন্ম দিচ্ছে।